অঙ্গীকার করার পূর্বে চিন্তা করে নাও

0
141
অঙ্গীকার করার পূর্বে চিন্তা করে নাও


এতে বুঝা গেল, এ তিনটির কোন একটিও মুমিনের কাজ না। মুসলমানের কাজ এটা নয় যে, সে মিথ্যা বলবে বা ওয়াদা ভঙ্গ করবে কিংবা আমানতের খেয়ানত করবে। মানুষ ওয়াদা করার পূর্বে শতবার চিন্তা করবে যে, আমি এ ওয়াদা পূরণ করতে পারব কিনা। ওয়াদা করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করার কোনই প্রয়োজন নেই। কিন্তু চিন্তা-ফিকির করে পরামর্শ করে এবং সকল ফলাফল পর্যবেক্ষণের পরে যখন একটা ওয়াদা করেই ফেলা হয় তখন একজন মুসলমানের কাজ হলো এ ওয়াদার উপর অটল থাকা। কেবল একটি সুরতকে শরীয়ত বৈধ ঘোষণা করেছে। তাহলো কোন কাজ করার অঙ্গীকার করেছিল কিন্তু কোন প্রকৃত ওজর দেখা দিয়েছে। আর ওজরের অবস্থাকে আল্লাহ তাআলা ব্যতিক্রম বলেছেন। এ অবস্থায় অপর ব্যক্তিকে বেল দিবে আমি আপনার সাথে ওয়াদা করেছিলাম। কিন্তু আমার কিছু ওজর দেখা দিয়েছে যার কারণে আমি এ ওয়াদা পূরণ করতে অক্ষম।
ওজর অবস্থায় অবগত করাবে
যেমন ধরে নিন, আপনি কারো সাথে ওয়াদা করেছেন আমি আগামীকাল তোমাদের বাড়িতে আসব। আর ইচ্ছাও ছিল আগামীকাল তাদের বাড়িতে যাওয়ার। কিন্তু পরবর্তীতে তুমি অসুস্থ হয়ে গেলে কিংবা বাড়িতে অন্য কেউ অসুস্থ হয়ে গেল তার দেখভালের জন্য তার কাছে থাকা জরুরী, যাওয়া সম্ভব না। তাহলে এটাও একটা ওজর। আর ওজর অবস্থায় যদি কেউ ওয়াদা পুরা না করে তাহলে শরীয়তে তার জন্য এ অবকাশ আছে আর আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন। তবে এ সুরতে যথাসম্ভব এই চেষ্টা কর চাই যে, আগামীতে প্রতিশ্রæতিকে এ সময়ে জানিয়ে দিবে। সে যেন কোন পেরশানী ও বিব্রত অবস্থায় পতিত না হয়।
মোট কথা ওয়াদা পূর্ণ করা ঈমানের লক্ষণ। আর ওয়াদা ভঙ্গ করাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেফাকের আলামত সাব্যস্ত করে দিয়েছেন।
এক সাহাবীর ঘটনা
হাদীস শরীফে এসেছে, একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এক সাহাবী এক বাচ্চাকে ডাকতে চাচ্ছিল আর ঐ বাচ্চা তার কাছে আসতে অস্বীকার করছিল। ঐ সাহাবী বাচ্চাটিকে উৎসাহ দেয়ার জন্য বললেন, আসো ছেলে। আমাদের কাছে আসে। আমরা তোমাকে একটি জিনিস দিবো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা শুনলেন ও বললেন, আচ্ছা, বলত বাস্তবেই তুমি তাকে বস্তুটি দেয়ার ইচ্ছে করেছ, নাকি এমনিই তার মন ভোলানোর জন্য তাকে এ কথা বলেছ? গাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার কাছে এক মুষ্টি খেজুর ছিল আর আমার ইচ্ছে ছিল, সে আসলে তাকে খেজুর দেব। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাস্তবেই যদি তোমার খেজুর দেওয়ার থাকে তাহলে তো ঠিক আছে। তবে যদি তোমার মনে তাকে কিছু দেয়ার ইচ্ছে না থাকে বরং তাকে শুধু তোমার কাছে ডাকার জন্য একথা বলছিলে যে, আমরা তোমাকে একটি বস্তু দিবো। তাহলে এটা তোমাদের তরফ থেকে অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হবে।
বাচ্চাদের সাথে ওয়াদা করে পূর্ণ করবে
বাচ্চাদের সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করলে দ্বিগুণ ক্ষতি হয়। এক. ওয়াদা ভঙ্গেও পাপ। দ্বিতীয় ক্ষতিÑ প্রথম দিন থেকে আপনি বাচ্চার মনে এ কথা গেঁথে দিচ্ছেন যে, ওয়াদা করে প্রতারণা করাটা খারাপ কিছু নয়। বাচ্চাদের মেধা স্বচ্ছ পাথরের ন্যায় পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এর উপর যা কিচু নকশা করে দেয়া হবে, তাই সর্বদা নকশা হয়ে যাবে। যেন আপনি প্রথম দিনেই বাচ্চাদের মনে ওয়াদা ভঙ্গেও বীজ বপন করে দিলেন। এখন এ বাচ্চা যদি ভবিষ্যতে কখনো ওয়াদা ভঙে্গৃর বীজ বপন করে দিলেন। এখন এ বাচ্চা যদি ভবিষ্যতে কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করে, তাহলে এ ওয়াদা ভৃেঙসর পাপে আপনার জন্যও একটা অংশ বরাদ্দ থাকবে। কারণ আপনি নিজ কর্মপদ্ধতি দ্বারা তাকে অঙ্গীকার ভঙ্গকারী বানিয়েছেন। তাই বাচ্চাদের সাথে সর্বদা এই কথার গুরুত্ব দেয়া উচিত যে, হয় তা তাদের সাথে ওয়াদা করবে না। আর যদি করা তাহলে তা পুরা কর যাতে তাদের অনুভ‚তিতে এ কথা বসে যায়, যে কথার ওয়াদা করা হয় তা পূর্ণ করা হয় ও করতে হয়।
বাচ্চাদের চরিত্র ধংসে আপনি অপরাধী
আমরা বাচ্চাদেরকে শিক্ষার জন্য শ্রেষ্ঠ স্কুলে ভর্তি করি ঠিক কিন্তু ঘরের পরিবেশ এমন বানিয়ে রেখেছি, যার দ্বারা বাচ্চাদের মেজাজ, চরিত্র, কাজকর্ম বিনষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের সমাজে উদাসীনতা ও অসাবধানতা ব্যাপক। যেমন আপনি বাড়ির বাহিরে কোথাও যাচ্ছেন। বাচ্চা জিদ করে বসল আপনার সাথে যাওয়ার জন্য। এখন আপনি ঐ বাচ্চা থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য তাকে ওয়াদা দিলেন, আমি তোমার জন্য একটা বস্তু নিয়ে আসবো। এ কথা বলে আপনি চলে গেছেন। বাচ্চাকে আপনি ভুলিয়ে তো দিলেন কিন্তু যে ওয়াদা আপনি তার সাথে করেছিলেন তা পূর্ণ করলেন না। তাহলে আপনি একদিকে ওয়াদা ভঙ্গেও অপরাধে অপরাধী, অপরদিকে এ বাচ্চার আদব-আখলাক নষ্টের অপরাধেও অপরাধী হলেন। এ বাচ্চার মেধাকে আপনি অঙ্কুরেই নষ্ট করে দিলেন। তাই বাচ্চাদের সাথে মুআমালা করতে খুবই সাবধান হওয়া উচিত।
বাচ্চাদের দ্বারা মিথ্যা বলানো
আমাদের সমাজে এ কথাটিও ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে, এক লোক আপনার বাড়িতে এসেছে আপনার সাথে সাক্ষাত করতে কিংবা কারো ফোন আসছে। বাচ্চা এসে আপনাকে জানাল, অমুক সাহেব আপনার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছেন অথবা অমুক সাহেব ফোনে আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন। এখন আপনি ঐ সাহেবের সাথে কথা বলতে বা সাক্ষাত করতে চাচ্ছেন না। তাই আপনি বাচ্চাকে বলে দিলেন, যাও গিয়ে বলো আব্বা বাসায় নেই। এখন বাচ্চা তো দেখছে, আব্বাজান বাসায় আছেন; কিন্তু আব্বা বাসায় থেকেও আমাকে দিয়ে বলাচ্ছেন যে, গিয়ে মিথ্যা বলে দাও, তিনি বাসায় নেই।
সুতরাং আজকে যখন আপনি তাকে দিয়ে মিথ্যা বলাবেন, তাহলে কালকে যখন নিজে মিথ্যা বলবে তখন কোন মুখে আপনি তাকে মিথ্যা বলা থেকে ফেরাবেন। কারণ আপনি নিজেই তো তাকে মিথ্যা বলঅর অভ্যঅস বানিয়ে দিয়েছেন। আপনি সামান্য স্বার্থেও খাতিরে মিথ্যার ভয়াবহতা এই বাচ্চার দেমাগ থেকে নষ্ট করে দিয়েছেন। এখন যদি ঐ বাচ্চা মিথ্যা বলে এবং মিথ্যা বলা তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, তাহলে এই পাপের মধ্যে আপনিও সমানভাবে ভাগ হবেন আর আপনি এ বাচ্চার জীবনটাকে ধংস করে দিলেন।
কারণ যে মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, দুনিয়ার কোথাও তার উপর বিশ্বাস করা হয় না। ভরসা করা হয় না। তাই বাচ্চাদের সাথে মুআমালা করতে বিশেষভাবে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী। বাচ্চাদেরকে সততা শেখাতে হবে, আমানতদারী শেখাতে হবে ও ওয়াদা পূর্ণ করা শেখাতে হবে।
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিন দিন অপেক্ষা করা
হাদীসের বর্ণনায় একটি ঘটনা এসেছে, যা নবুয়ত লাভের পূর্বে ঘটনা। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক লোকের সাথে লেনদেন হলো। আপসে সিদ্ধান্ত হলো, অমুক স্থানে উভয়ে আগামীকাল সাক্ষাত করবেন। দিন, স্থান, সময় সিদ্ধান্ত হলো। নির্ধারিত সময় যখন এলো, তখন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ স্থানে পৌঁছে গেলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওখান গিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু যার সাথে ওয়াদা সে ওখানে আসেননি। অপেক্ষায় কয়েক ঘণ্টা চলে গেল; কিন্তু লোকটি এলো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়িয়েই রইলেন। রেওয়ায়েতে এসেছে যে, তিন দিন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওখানেই দাঁড়িয়ে রইরৈন তার অপেক্ষায়। শুধু প্রয়োজন সারার জন্যই ঘরে যেতেন। পরে ফিরে সেখানে এসে দাঁড়াতেন। তিন দিন পর যখন ঐ লোক এলো, তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শুধু এতটুকুই বলেছেন যে, তুমি ওয়াদা মতো না এসে আমাকে কষ্ট দিয়েছ। সুতরাং শুধু ওয়াদা পূরণ করার জন্য যেন ওয়াদা ভঙ্গ না হয়, তাই তিন দিন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অপেক্ষা করেছেন।
আবু জাহেলের সাথে হযরত হুযায়আ (রাযি.)-এর ওয়াদা
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সব ওয়াদা পূর্ণ করেছেন যার দৃষ্টান্ত দেয়া সম্ভব নয়। হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান প্রসিদ্ধ সাহাবী। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোপন বিষয়গুলোর যিম্মাদার ছিলেন। যখন তিনি এবং ত৭ার আব্বা ইয়ামান (রাযি.) মুসলমান হলেন, তখন মুসলমান হওয়ার পর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে মদীনা শরীফে আসছিলেন। পথিমধ্যে তাদের সাক্ষাত ঘটল আবু জাহেল ও তার বাহিনীর সাথে। তখন আবু জাহেল বাহিনী নিয়ে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য যাচ্ছিল। হুযায়ফা (রাযি.)-এর সাক্ষাত যখন আবু জাহেলের সাথে হলো তখন সে ধরে ফেলল। জিজ্ঞাসা করল, কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন, আমরা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে মদীনায় যাচ্ছি। আবু জাহেল বলল, তাহলে আমরা তোমাদেরকে আর ছাড়ব না। কারণ তোমরা মদীনায় গিয়েই আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে।
তিনি বললেন, আমাদের উদ্দেশ্য কেবল হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাত করা। আমরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করব না। আবু জাহেল বলল, আচ্ছা, তাহলে আমাদের সাথে ওয়াদাবদ্ধ হয় যে, ওখানে গিয়ে শুধু সাক্ষাত করবে কিন্তু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। তিনি ওয়াদা করলেন। তাই আবু জাহেল তাকে ছেড়ে দিলো। তিনি যখন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে পৌঁছলেন, তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবাগণকে নিয়ে বদও যুদ্ধেও উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন। রাস্তায় তার সাথে সাক্ষাত হলো।
হক-বাতিলের প্রথম রণক্ষেত্র ‘বদর’
আপনি আন্দাজ করুন ইসলামের প্রথম হক-বাতিলের যুদ্ধ ‘বদও যুদ্ধ’ হচ্ছিল। এটা সেই রণাঙ্গন যাকে কুরআন কারীম = তথা হক-বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ হতে যাচ্ছে যাতে অংশগ্রহণকারীকে বদরী বলা হবে। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে বদরী সাহাবাদের সুউচ্চ মর্যাদা। আর বদরী সাহাবাদের নাম অযিফঅ হিসেবে পড়া হয়। তাদের নাম পড়লে আল্লাহ দুআ কবুল করেন। যে বদরীদের সম্পর্কে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যতবাণী হলো, আল্লাহ তাআলা সকল বদরী, যারা বদও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এমন একটা যদ্ধ হতে যাচ্ছি।
ঘাড়ের উপর তরবারী রেখেও ওয়াদা পূরণ
যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে তার সাক্ষাত হলো, তখন তিনি পুরো ঘটনা তাকে শুনালেন। রাস্তায় আবু জাহেল আমাদেরকে আটক করে ফেলেছিল। আমরা কষ্ট করে এ মর্মে ওয়াদাবদ্ধ হয়ে প্রাণ রক্ষা করেছি যে, আমরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করব না। অতপর আবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এি বদরের যুদ্ধ হতে যাচ্ছে আপনিও এতে আগমন করছেন, আমাদের বড় ইচ্ছে হচ্ছে আমরাও এতে অংশগ্রহণ করব। আর এ ওয়াদার ব্যাপারটি হলো, সে তো আমাদের ঘাড়ে তরবারী রেখে আমাদের থেকে ওয়াদা নিয়েছিল, আমরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করব না। আমরা ওয়াদা না কর লে সে আমাদেরকে ছাড়ত না। তাই আমরা ওয়াদা করেছি। কিন্তু আপনি আমাদেরকে অনুমতি দিন, আমরা এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি আর আমাদের সৌভাগ্য ও ফযীলত অর্জন হয়ে যাক। (আল ইসাবা : খÐ-১, পৃষ্ঠা-৩১৬)
তোমরা ওয়াদা করে কথা দিয়ে এসেছ
কিন্তু উভয় জগতের সরদার রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, তোমরা ওয়াদা করে এসেছ এবং কথা দিয়ে এসেছ। তোমাদেরকে রক্ষা করা হয়েছে এ জন্যই যে তোমরা ওখানে গিয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাত করবে কিন্তু তার সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। এজন্য আমি তোমাদেরকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছি না।
এটা ঐ সময় যখন মানুষের পরীক্ষা হয় সে তার যবান ও ওয়াদার কতটুকু হেফাযত করে। যদি আমাদের মতো মানুষ হতো তাহলে হাজারো ব্যাখ্যা করে নিতেন। যেমন তাবিল করত তাদের সাথে যে ওয়াদা কেেছন, সেটা দিল থেকে সত্যি সত্যি করা হয়ীন বরং সেটা তো আমাদের থেকে জোরপূর্বক নেয়া হয়েছিল। আল্লাহ জানেন, আরো কত কি তাবিল আমাদের মনে আসতে অথবা এ ব্যাখ্যা করে নিতাম যে, সেটা ওজরের অবস্থা ছিল। কারণ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেই হবে। কুফরের মোকাবেলা করতেই হ বে। আর ওখানে এক একটা মানুষের মূল্যও অনেক। কারণ মুসলমান সৈন্য সংখ্যা ছিল শুধু ৩১৩ নিরস্ত্র ব্যক্তি। যাদের কেবল ৭০টি উট, ২টি ঘোড়া, ৮টি তলোয়ার, বাকি সকলের কারো কাছে লাটি, কারো কাছে ডাÐা, কারো কাছে পাথর। এরা এক হাজার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর মুকাবেলা করার জন্য যাচ্ছেন। তাই এক একজন মানুষের প্রাণ বড়ই দামী। কিন্তু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে কথা বলে দেয়া হয়েছে এবং সে ওয়াদা করা হয়ে গেছে সে ওয়াদা ভঙ্গ করা যাবে না।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন