আবরার ফাহাদের প্রাসঙ্গিকতা

0
73
অদৃশ্য আততায়ী কোভিড-১৯ অধ্যক্ষ

জসিম উদ্দিন
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের নৃশংসভাবে হত্যার প্রথমবার্ষিকী চলে গেল ৬ অক্টোবর। দেশপ্রেমিক আবরারের স্মৃতি ও চেতনা সংরক্ষণে রাজধানীর পলাশীর মোড়ে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিল ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ কাজে নেতৃত্ব দেন ডাকসুর সদ্যবিদায়ী সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। স্তম্ভটি তৈরি করার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে সেটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। কিছু তরুণ দেশপ্রেমের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে সেটি আবারো তৈরি করেন। আবারো সেটি তছনছ করে দেয়া হয়। দেশের স্বার্থের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে কারা এই ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে সে ব্যাপারে তদন্ত করার কোনো প্রয়োজন বোধ করতে সরকারের মধ্যে দায়িত্ববোধ দেখা গেল না।
আবরারের প্রাণদান নিছক কোনো সাধারণ কারণে ঘটেনি। একজন ছাত্র হয়েও তিনি বৃহত্তর স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলেছিলেন। তার উচ্চারিত কথাগুলো দেশের ১৬ কোটি মানুষের সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও শান্তির প্রসঙ্গ। তা ছাড়া বুয়েটের শিক্ষার পরিবেশে দুর্বৃত্তায়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সাধারণ ছাত্ররা জিম্মি হয়ে গিয়েছিল। অপমান-নির্যাতন-লাঞ্ছনা সেখানকার ছাত্রদের নিত্যদিনের ঘটনা হলেও কারো টুঁ শব্দ করার সাধ্য ছিল না। আবরারের প্রাণের বিনিময়ে বুয়েটে প্রাণবন্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। অত্যাচারী দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসের তান্ডব এবং সাধারণ ছাত্রদের পরাধীনতার শৃঙ্খল কিছুটা হলেও খসে পড়েছিল। বিশেষ করে প্রতিবেশী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নির্যাতন করার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর সেভাবে চালাতে পারেনি দুর্বৃত্তরা। এ কারণে আবরার একজন জাতীয় বীর। শ্রদ্ধার সাথে তাকে স্মরণ, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রয়োজনীয় একটি কাজ।
রাজধানীর পলাশীর মোড় বুয়েটের পাশেই অবস্থিত। জায়গাটি আবরারের স্মৃতি বহনের জন্য উপযোগী। সারা দেশে ক্ষমতাসীনরা অসংখ্য স্মারক নির্মাণ করেছেন। এর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জাতীয় উদ্দেশ্যের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রাধান্য পেয়েছে। এমন ব্যক্তি ও আদর্শের জন্য রাষ্ট্রের অঢেল অর্থ খরচ করে স্মৃতিচিহ্ন নির্মাণ করা হয়েছে যার কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। এতে করে কিছুু ব্যক্তিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের সাথে ১৬ কোটি মানুষের কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। এমনকি দেব-দেবীর মূর্তিও গুরুত্বপূর্ণ স্তানে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। জনাকীর্ণ স্থানে উলঙ্গ নারীমূর্তি নির্মাণের কী উদ্দেশ্য রয়েছে কেউ জানে না। এসব মূর্তি ‘যৌনতাকে উসকে দিচ্ছে’ এমন আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। আবার এসব ব্যাপারে কেউ কথা বলতে চান না। কারণ জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের তকমা সেঁটে দেয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের তকমা কারো নামে এঁটে দিলে তার আর রেহাই নেই। এ কাজে দেশের সংবাদমাধ্যমের একটা অংশ বেশ তৎপর। কথিত প্রগতিশীল চেতনা ধারণ করার আবেগ থেকে তারা এমনটি করে থাকেন।
আবরারের হত্যাকান্ড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বৃত্তদের নিকৃষ্ট কাজের একটা বড় কালো দাগ। মেধাবীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসুরের জন্ম হয়েছে। এই দানবদের দৌরাত্ম্য কোথায় গিয়ে ঠেকেছিল তা জানলে শিউরে উঠতে হয়। যারা দফায় দফার আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে সবাই দেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র। এক সহপাঠী বন্ধুকে রাতভর পেটানোর পরও তাদের জিঘাংসা মেটেনি। তারা মুমূর্ষু বন্ধুকে একটু পানি দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করেনি। হাসপাতাল চিকিৎসা তো দূরের কথা। আমাদের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রদের কারা নরপিশাচ বানাল? নিহত আবরার তাই ইতিহাসে এই পিশাচদের শিকার হিসেবে স্মরণে থাকা দরকার যাতে করে কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন নরপিশাচ তৈরি করার আয়োজন না করে। কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা আমাদের কোনো মেধাবী ছাত্র সামান্য স্বার্থের কারণে এভাবে নরপিশাচ হয়ে না যায়। তাই আবরারের স্মৃতি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যারা একটি খুনের বদৌলতে বুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ পেয়েছেন তারা কেউ তার স্মৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসেননি। অন্ততপক্ষে ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা স্তম্ভটি ভেঙে ফেলার পরও বুয়েটের কেউ তা পুনর্নির্মাণে উৎসাহ দেখায়নি। এমনকি তাদের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। কথাগুলো ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের পক্ষ থেকে উচ্চারণ করা হয়েছে। পরিষদ বুয়েটের ছাত্রদের এমন নির্লিপ্ততা নিয়ে খোঁটা দিয়েছে। এরপরও বুয়েটের কাউকে এই দুঃসময়ে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। বুয়েটের সেই সময়ে যারা আন্দোলন করেছিলেন তারাও এ ধরনের কোনো স্মারক চিহ্নের জন্য আগ্রহ দেখাননি।
অথচ জাতীয় স্বার্থের প্রতীক হয়ে উঠেছেন আবরার ফাহাদ। ১৬ কোটি বোবা মানুষের পক্ষ থেকে তিনি একাই কথা বলে উঠেছেন। সেই অর্থে আবরারের স্মৃতিস্তম্ভ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা প্রয়োজন। সরকার এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।
ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা স্মৃতিফলকে আবরারের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে একটি লাইন উদ্ধৃত করা হয়। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, ‘অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা, অসীম মহাকাশের অন্তে’। তিনি সত্যিই আজ আর বুয়েটে তার বন্ধুদের মধ্যে নেই। তবে তার অনেক বন্ধু তাকে নিয়ে তার হত্যার এক বছরের মাথায় অনেক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। সেখানে ব্যক্তি হিসেবে আবরারের উচ্চ মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। আবরার তার আদর্শিক চেতনা নিয়ে এখন আরো জোরালোভাবে তাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে আট স্তম্ভ বানানো হয়েছে। স্তম্ভে উৎকীর্ণ প্রত্যেকটি থিম জাঁতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এগুলো হচ্ছে- সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গণপ্রতিরক্ষা, সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, দেশীয় শিল্প-কৃষি ও নদী-বন-বন্দর রক্ষা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদা। আজকের বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এগুলো জাতীয় আলোচনার একেকটি জ¦লন্ত ইস্যু। এগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হওয়া দরকার। জাঁতি হিসেবে এসব ব্যাপারে সবার উন্মুক্ত মতামত থাকা উচিত।
বর্তমানে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অটুট ও রক্ষিত নয়। দেশটি প্রতিবেশীদের আগ্রাসী আচরণের শিকার। মিয়ানমার বাংলাদেশের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে। দেশটি বাংলাদেশের সীমান্তে গণহত্যা চালিয়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ কক্সবাজার জেলায় এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জায়গা দিতে হয়েছে। বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর ভার নিতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কোনো আগ্রহ তো দূরের কথা, উল্টো মিয়ানমার সীমান্তে সামরিক সমাবেশ ঘটাচ্ছে, প্রতিনিয়ত সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করছে, বঙ্গোপসাগরে তাদের নৌশক্তি বাড়াচ্ছে। রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের শান্তি-সমৃদ্ধি প্রতিনিয়ত নষ্ট করে গেলেও আমরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অব্যাহত ব্যর্থ হচ্ছি। সামরিক দিক দিয়ে আমরা রয়েছি চাপের মুখে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে ক‚টনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ভারত মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তারা মিয়ানমারকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য দিয়ে চলেছে। সে দেশে ভারতের বিশাল বিনিয়োগও রয়েছে। আর ভারত সীমান্তেও প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। মাত্র দু’টি দেশের সাথে আমাদের সীমান্ত। দু’টি দেশই আমাদের প্রতি শত্রæভাবাপন্ন। আমাদের আশপাশে এমন কোনো দেশ নেই যারা আমাদের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও একই মূল্যবোধ ধারণ করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে গণপ্রতিরক্ষার নীতি গ্রহণ করা আমাদের জন্য জরুরি।
সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি আমাদের দেশে সবসময় আছে। এরপরও সত্য হলো, ব্যাপারটি এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ দেশে একটি স¤প্রদায়ের মধ্যে খুব একটা এলিট শ্রেণীর উদ্ভব ঘটেছে। এরা দেশের প্রশাসনে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এই অল্পসংখ্যক ব্যক্তি সাধারণ মানুষের প্রতি অবজ্ঞার আচরণ করে। অন্য দিকে, এ দেশে রয়েছে একটি সুবিধাবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠী। তারা সবসময় এ দেশে ‘সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত-নিষ্পেষিত’ বলে ¯েøাগান তুলে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়। অথচ এ গোষ্ঠীটি নিজেরাই সারা দেশে দুর্বল সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালায়। ফরিদপুরে সা¤প্রতিক সময়ে এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা তা করেছে। তাই প্রকৃত সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি আমাদের জন্য জরুরি যেখানে পিকে হালদারের মতো মানুষরা আশকারা পেয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা লুট করে নিতে পারবে না। আবার দুর্বল সংখ্যালঘুদের ওপর ক্ষমতার আশ্রয়ে থেকে কেউ নির্যাতন-নিপীড়ন, সম্পদ লুণ্ঠন করতে পারবে না।
দেশীয় শিল্প আমাদের রক্ষা করতে হবে। আমরা পাট শিল্পের করুণ দশা দেখেছি। জাতীয় অবহেলা দুর্নীতির পাশাপাশি ষড়যন্ত্র আমাদের পাটশিল্পকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন পোশাকশিল্পও একই ধরনের সঙ্কট মোকাবেলা করছে। এ শিল্পে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন প্রয়োজন হলেও ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের দেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখতে চায়। নদী ও বন্দর রক্ষায় যে আমরা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নদীকে সংরক্ষণ করার বদলে ভরাট করে, দখল করে, দূষণ করে শেষ করে দিয়েছি। ভারতের সাথে থাকা আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানি ভারত একাই প্রত্যাহার করে নেয়। বর্ষায় সব পানি ছেড়ে দিয়ে বন্যায় আমাদের ভাসিয়ে দেয়। শিল্পায়নের বর্জ্য তারা ছেড়ে দিচ্ছে এ নদীতে। ভাটিতে আমাদের পরিবেশের তারা সর্বনাশ করেছে। বন্দরের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। এগুলোকে আমরা সময়ের প্রয়োজনে ‘আপডেট’ করতে পারিনি। বরং চুক্তি করে ভারতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্দরের সুবিধা দিচ্ছি। অথচ আমদানি-রফতানি সামাল দিতে হিমশিম খায় আমাদের বন্দরগুলো।
সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা আমরা নিজেরাই বিকিয়ে দিয়েছি। এদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন বিগত পাঁচ দশক ধরে ব্যবহার করা হয়েছে নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে। একটি ‘খারাপ চরিত্র’ বলতে আমরা বোঝাতে চাই দাড়ি-টুপিওয়ালা মানুষ। সমাজের ‘সবচেয়ে অশুদ্ধ মানুষ’ বলতে আমরা নিজেরাই নিজের ধর্মের লোকদের চিহ্নিত করাতে শিখিয়েছি। আমাদের নাটক-সিনেমা-থিয়েটার এ নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। তার ওপর রয়েছে ‘আকাশ সংস্কৃতি’র অবাধ আগ্রাসন। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বস্তাপচা চ্যানেল আমাদের সমাজের বিপুল ক্ষতি করে যাচ্ছে। এসব চ্যানেল বন্ধ করার কোনো তাগিদ সরকার অনুভব করে না কেন? দেশের সিভিল সমাজের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো জোরালো প্রতিবাদ নেই।
পূর্বে উল্লিখিত অষ্টস্তম্ভের মধ্যে মানবিক মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। এ দেশের সব মানুষের সমান মর্যাদা নেই। বিগত একযুগ ধরে বাংলাদেশের সমাজে এর ভয়াবহ এক রূপান্তর ঘটেছে। সেখানে কিছু মানুষের জন্য আইন-আদালত রক্ষাকবজ হতে পারেনি। তাদের মানসম্মান ধুলোয় মিশে গেছে। নারীদের প্রতি আমাদের মনোভাব কেমন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের যে উচ্চহার সেটা একটা ভারসাম্যহীন অমানবিক সমাজের চিত্রই আমাদের সামনে তুলে ধরে।
ছাত্র অধিকার পরিষদ আবরারের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে সেখানে যেসব ইস্যু উল্লেøখ করেছে, তা বাংলাদেশের সঙ্কটকে দারুণভাবে শনাক্ত করতে পেরেছে। আবরারের বলিদান অবশ্যই জাতির জন্য সার্থক হতে পারে যদি এ অষ্টস্তম্ভ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে খোলামেলা আলাপ-আলোচনার সূচনা করা যায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে ফেনী নদীর পানি নিয়ে ভারতের সাথে চুক্তি হয়। তারা আমাদের ফেনী নদী থেকে পানি তুলে নিতে পারবেন। অথচ আমাদের দাবি ছিল, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা পাওয়া। ভারত বরাবর আমাদের এ নিয়ে আশ্বাস দিয়ে চলেছে। তার ওপর নাগরিকপঞ্জি করে তারা অবৈধ নাগরিকের জন্ম দিচ্ছেন। ওই ‘অবৈধ’দের বাংলাদেশী বলে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের পক্ষে ফেসবুকে লিখে আবরার নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিলেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য সবসময় প্রাসঙ্গিক। যারা আবরারের স্মৃতিকে মুছে দিতে চায় তারা দেশের বন্ধু হতে পারে না।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন