“মানবিক পুলিশ ও জনগনের বন্ধু প্রেক্ষিত বাংলাদেশ পুলিশ”

0
189
“মানবিক পুলিশ ও জনগনের বন্ধু প্রেক্ষিত বাংলাদেশ পুলিশ”

মোঃ আপেল মাহমুদ

বছরের পর বছর যে বাহিনী বাংলাদেশের মানুষকে জানমালের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে সেই বাহিনী হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর রয়েছে গৌরবউজ্জল ইতিহাস। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বাহিনীর হাজারো সদস্য নিজেদের জীবন করেছে উৎসর্গ। সোনার বাংলা বিনির্মানে সর্বদা বাহিনীর রয়েছে আত্বত্যাগী ভ‚মিকা। সকল প্রকার অপরাধ দমনে এই বাহিনী সর্বদা রয়েছে তৎপর। থেকেছে সাধারণ মানুষের সাথে। সব সময় অসহায় মানুষের পাশে থেকে এই পুলিশ বাহিনী অদর্শ স্থাপন করে আসছে। রাষ্ট্রীয় সকল প্রকার দূর্যোগে এই পুলিশ বাহিনী ছিল মানুষের পাশে। বর্তমানে করোনাকালীন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে নিজেদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে সকল প্রকার মানবিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নিজের পরিবারের সদস্যরা করোনা ব্যক্তিকে কে যখন রাস্তায় ফেলে যাচ্ছে তখন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এই রোগীকে নিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালে, মৃত ব্যক্তিকে নিজেদের উদ্দোগে দাফন করেছে। ত্রাণ বিতরনের মাধ্যমে ক্ষুধার্ত দরিদ্র বস্ত্রহীন মানুষের পাশে দাড়িয়ে এই বাহিনী হয়ে উঠেছে মানবিক পুলিশ। জনসাধারনের এমন কোন সমস্যা নেই যেখানে এই বাহিনী সমাধানে করে দিচ্ছে না। রাত জেগে গ্রাম মহল্লা শহর পাহাড়া দিয়ে নিরাপত্তা দিচ্ছে যাতে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে। চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষন রাহাজানি, ছিনতাই সকল প্রকার অপরাধ রোধে এই বাহিনী দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে ঝগড়া, নিজের ঘরের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া সকল প্রকার ঝগড়া পর্যন্ত থানা পুলিশ মিটিযে দিচ্ছে। ভ‚মিকা রাখছে মাদকের বিরুদ্ধে, মাদক সেবীদের কাউন্সিলিংএর মাধ্যমে সাধারণ জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। নারী নির্যাতনের ঘটনা রোধে পুলিশের ভ‚মিকা প্রশংসনীয়। অপহরনের ঘটনায় ভিকটিম উদ্ধার করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করেছে এই বাহিনী। সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হচ্ছে এই সমাজকে করেছে জঙ্গীঁমুক্ত। শত শত জঙ্গীঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ পুলিশ একটি রোল মডেল হয়ে হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে প্রশংসনীয় ভ‚মিকা। কি না করেছে এই বাহিনী। দিন রাত বৃষ্টিতে ভিজে রোদে পুড়ে ট্রাফিক পুলিশ জনগণকে দিচ্ছে সেবা। সবাই ঈদ করতে বাড়িতে গেলে এই বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের কর্মস্থলে করেছে দায়িত্ব পালন। ত্যাগ করছে নিজেদের আবেগ অনুভ‚তিকে। শিল্পে কারখানার নিরাত্তায় দিন রাত ভ‚মিকা পালন করছে শিল্প পুলিশ। সড়কের সার্বিক নিরাপত্তায় উজ্জল ভ‚মিকা রেখে যাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। নদী পথের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে নৌ পুলিশ। রেলওয়ে পথের সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ ভ‚মিকা পালন করছে রেলওয়ে পুলিশ। বড় বড় হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রশংসনীয় ভ‚মিকা পালন করছে পিবিআই সিআইডি। মহানগরের সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে মহানগরের পুলিশ ইউনিট সমূহ। পর্যটন স্পট গুলোতে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এই ভাবে জনগণের জান মালের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সর্বদিক থেকে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে কাজ করে যাচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এই সেবাকে জনগণের দৌড় গোড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নিয়েছেন বিভিন্ন উদ্দ্যোগ। কাজ করে যাচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা, বিট পুলিশিং ব্যবস্থাসহ আরো অনেক উদ্দ্যোগ। শুধু তাহাই নয় জাতীয় স্থানীয় নির্বাচন সমূহে ন্যায় নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখার নিমিত্তে ভ‚মিকা পালন করছে এই বাহিনী। জনগণ যাতে সহজে পাসপোর্ট পেতে পারে সে জন্য কাজ করছে এই বাহিনী। সকল প্রকার নাশকতা রোধকল্পে গোপন সংবাদ সংগ্রহ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই বাহিনীর স্পেশাল ইউনিট (ঝই)। বিমান বন্দর গুলোতে দিচ্ছে নিরলস সেবা। রাষ্ট্রীয় এবং বিদেশী ভিআইপিদের নিরাপত্তায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে এই বাহিনীর সদস্যরা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থপনা সমূহে নিরাপত্তা দিচ্ছে এই পুলিশ বাহিনীর সদস্য। এইভাবে দিন-রাত প্রতিটা অধ্যায়ে পুলিশ বাহিনী নিজেদের দক্ষতা মেধা দিয়ে নিজেদের দায়িত্বে পালন করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু সমালোচনাও রয়েছে। সেটি হচ্ছে গুটি কয়েক পুলিশ সদস্য নিজ দায়িত্বে নিজেরা অনৈতিক কাজে জড়িয়েছে যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। কিন্তু এর দায়িত্ব বর্তায় ব্যক্তির নিজের উপর। পুরো ইউনিটের উপর এর দায়-দায়িত্ব বর্তায় না। যখই কোন পুলিশ সদস্য কোন অনৈতিক কাজে জড়িয়েছে তার এবং তাদের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তথা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে বিভাগীয় শাস্তি। তাহাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে আইনগত ব্যবস্থা। ক্ষমতা অপব্যবহার করে ব্যক্তিতান্ত্রিক অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ এই বাহিনীতে নেই। এই বাহিনীতে রয়েছে সিকিউরিটি সেল, পুলিশ ইন্টারনাল অভার সাইড ইউনিট, ডিসিপ্লিনারী ইউনিট সহ একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ ইউনিট। যে গুলোর মাধ্যমে অনৈতিক কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দুই একজন সদস্যদের জন্য পুরো বাহিনীর উজ্জল সম্মান হতে পারে না। কারন এই বাহিনী সর্বদা জনগণের পাশে থেকেছে এবং অসহায় নির্যাতীত নিপীড়ীত মানুষের পাশে থেকে নিজেদের মানবিক পুলিশ ও জনতার পুলিশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিীর সুনাম ছিল, আছে এবং থাকবে এবংএই বাহিনী সর্বদাই জনগণের বন্ধু। আর এই কারনেই একটি কথা এখানে না বললেই নয় “মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার”

লেখক : মোঃ আপেল মাহমুদ, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, চট্টগ্রাম রিজিয়ন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন