কোচিংয়ে পড়ানো শিক্ষকদের নিয়ে সতর্ক হতে বলল সংসদীয় কমিটি

0
76
কোচিংয়ে পড়ানো শিক্ষকদের নিয়ে সতর্ক হতে বলল সংসদীয় কমিটি

আপডেট »১৬≈ অক্টোবর ≈ ২০২০

গৃহকোণ প্রতিবেদক: কোচিং সেন্টারে পড়ানো শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ফাঁকি না দেয়, সেদিকে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুস বলেন, দেশে অনেক ধরনের কোচিং সেন্টার আছে। আমরা স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের পরিচালিত কোচিং সেন্টার নিরুৎসাহিত করতে চাচ্ছি। তিনি বলেন, শিক্ষকরা এসব কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকে। যাতে দেখা যায় তারা ক্লাসে পড়ানোর চেয়ে কোচিং সেন্টারে পড়াতে উৎসাহী হয়। সেজন্য আমরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হতে বলেছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়, যে সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ ক্লাসের পড়া ফাঁকি দিয়ে কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়। ২০১২ সালে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা’ প্রণয়ন করে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার এমপিও স্থগিত, বাতিল, বেতনভাতা স্থগিত, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থহিত, বেতন একধাপ অবনমিতকরণ, সাময়িক বরখাস্ত, চ‚ড়ান্ত বরখাস্ত ইত্যাদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওবিহীন কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সংসদীয় কমিটির সদস্য কুদ্দুস বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে ক্লাসেই শিক্ষকদের থেকে ঠিকমতো পাঠ নিতে পারে সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেজন্যই আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে শিক্ষার পরিবেশ তৈরী করতে দুর্বল ভবন চিহ্নিত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়কে জোরালো ভ‚মিকা পালনের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা কারিকুলামের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি খসড়া প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে। কারিগরি শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে প্রতি উপজেলায় অন্ততঃ একটি করে কারিগরি কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক সল্পতা নিরসনের লক্ষ্যে শূন্য পদে নিয়োগের কার্যক্রম শিগগিরিই শুরু হবে বলে জানানো হয়। বৈঠকে শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মো. আবদুল কুদ্দুস, ফজলে হোসেন বাদশা, আবদুস সোবহান মিয়া এবং গোলাম কিবরিয়া টিপু বৈঠকে অংশ নেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন