রফতানিতেও ঐতিহাসিক রেকর্ডের আশায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

0
66
রফতানিতেও ঐতিহাসিক রেকর্ডের আশায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

আপডেট »০৩ ≈ সেপ্টেম্বর ≈ ২০২০

গৃহকোণ প্রতিবেদক: করোনা মহামারির মধ্যেও চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। একই রকমভাবে জুলাই-আগস্টে রফতানি বাণিজ্যে দেশে ঐতিহাসিক রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ রিসোর্স অনেক বেশি। সেগুলোকে আমরা কখনো মূল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারিনি। মূল অর্থনীতিতে তাদের আমরা কম পেয়েছি। এখন আস্তে আস্তে তাদের মূল ¯্রােতধারায় নিয়ে আসছি। এতে অর্থনীতিতে গতিশীলতা আরও অনেক বাড়বে। গতকাল বুধবার জুম অ্যাপের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। করোনা পরিস্থিতিতেও আমাদের রেমিট্যান্স ও রফতানির প্রবৃদ্ধি ভালো, এতে বোঝা যাচ্ছে আমাদের অর্থনীতি আবার সচল হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি সবসময় একটি জিনিস বিশ্বাস করি, সেটা হলো আমার নাই, সেই নাই থেকে আমি কিছু অর্জন করতে পারব না। আমি মনে করি আমাদের আছে এবং তা কাজে লাগাতে হবে। এই আছে টাকেই কাজে লাগাচ্ছি। গত দুই মাসে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন রেমিট্যান্স যেভাবে উপরের দিকে এগোচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড সৃষ্টি হবে জুলাই আগস্টের রফতানি বাণিজ্যে। সব ক্ষেত্রই আমরা ভালোটা পাচ্ছি। এদেশের মানুষ আমাদের প্রাণশক্তি তাদের কারণেই সব সম্ভব হবে। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন তার ফল তারা পাচ্ছেন। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এসএমই উদ্যোক্তারা কোনো লোন পাচ্ছে না। এতে সরকার বা অর্থমন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চাই ক্যাশ ট্রান্সফার। যাদের অ্যাকাউন্ট নেই তাদের আমরা স্বীকার করি না বা করতে পারি না। ফলে যার টাকা পাওয়ার কথা তার হাতে গিয়ে টাকা পৌঁছায় না। আমরা এগুলো দূর করতে চাই। তিনি বলেন, আজকে যারা ছোট একদিন তারা মিডিয়াম হবে। এরপর তারা লার্জ হবেন, এটাই নিয়ম। আমি বলব তাদের অ্যাকাউন্ট আছে এবং তারা কী ব্যবসা করে এটা যদি তারা প্রমাণ করে আমার কাছে আবেদন করলে আমরা তাদের যতটা সহায়তার দরকার করব। তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আলাদা ইউং আছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন এর বাইরে কেউ না। তিনি নিজেও এগুলো তদারকি করেন। ফলে এবার হইচই কম হয়েছে। সবাই সরাসরি সহায়তা পাচ্ছে। ছোট্ট একটু প্রণোদনা এবং বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোতে ঝামেলা কমানোর উদ্যোগ নেয়ার কারণেই রেমিট্যান্সে অবিশ্বাস্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোয় প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের জুলাই এবং আগস্ট মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ৫০ শতাংশ। গত বছর যা ছিল রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে সবচেয়ে হায়েস্ট আর্নিং বছর। গত বছর ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের তুলায় ৫০ ভাগ বৃদ্ধি এটা অবিশ্বাস্য একটা ঘটনা। ছয় মাসে যেটা পেতাম দুই মাসেই সেটা এসে গেছে। এত বেশি বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যখন পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলাম তখন নিজ উদ্যোগে একটা স্টাডি করেছিলাম। স্টাডিতে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে বৈধপথে আর ৪৯ শতাংশ আসে অবৈধ বা হুন্ডির মাধ্যমে। আমি তখন থেকেই ভাবতে শুরু করলাম যে শতভাগ রেমিট্যান্স বৈধপথে আনতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আয় হয় তার পুরোটাই বৈধপথে আসুক। সেজন্য আমরা দুটি কাজ করি। একটি হচ্ছে রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান। রেমিট্যান্স বাড়ার বিষয়ে এ প্রণোদনা কাজ করেছে। দ্বিতীটি হচ্ছে আগে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোটা ছিল অনেক জটিল। নানা প্রশ্ন করা হতো, এখন এগুলো সহজ করে দিয়েছি। গত এক বছর যাদের রেমিট্যান্স এসেছে তাদের কাউকে প্রশ্ন করা হয়নি। কারও রেমিট্যান্স মার যায়নি। সে জন্যই এত রেমিট্যান্স বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীরা অনেক কষ্টে আয় করে আমাদের সাপোর্ট দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারা নিজেরাও শক্তিশালী হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ কাষ্টের অর্থ বৈধপথে পাঠানো তারা শুরু করেছেন। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠান। কোনো না কোনো দিন এর সুফল আপনারা পাবেন। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে ১৯৬ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৬ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ধরে), যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫১ কোটি ৯২ লাখ ডলার বা ৩৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের আগস্টে ১৪৪ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। একক মাস হিসাবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের জুনে। ওই মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন