১৫-২০ দিন পর সবজির দাম কমবে, আশা কৃষিমন্ত্রীর

0
68
১৫-২০ দিন পর সবজির দাম কমবে, আশা কৃষিমন্ত্রীর

আপডেট »১২≈ অক্টোবর ≈ ২০২০

গৃহকোণ প্রতিবেদক: আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন পর সবজির দাম কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য সবজির দাম বেড়েছে। এখানে কারো কোনও কিছু করার নেই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর জন্য দায়ী। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ‘বাংলাদেশের প্রথম হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের’ ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যান সায়েদুর ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভ‚মিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন কৃষিসচিব নাসিরুজ্জামান, এ ছাড়া বিএডিসির সদস্য পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালকসহ বিএডিসির অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সবজি দাম দ্বিগুণ হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবছর আমাদের তিন বার বন্যা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে বন্যা এসে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক রোপা-আমন লাগাতে পারেনি, যাও লাগাতে পেরেছিল বন্যায় নষ্ট হয়েছে। এর জন্য চালের দাম বেড়েছে। এসময়ে মরিচেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। মরিচক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে অতি বৃষ্টির জন্য। সবজির দাম তাই ১৫ দিন বেশি থাকে। তাছাড়া এসময়ে প্রতিবছর সবজির দাম বেশি বাড়ে। তবে আশা করছি, ১৫/২০ দিন পর দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, কিছুদিন পর এমন হবে কৃষকরা দাম পাবে না। পৃথিবীর সব দেশেই মধ্যসত্বভোগী বাজারজাতকরণ ব্যবস্থায় থাকে। আরেকটা দিক আছে পথে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি পণ্য পরিবহনে। সেক্ষেত্রে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি এ সমস্যা কমানোর জন্য। সেটা অনেক কমে এসেছে আগের মতো এখন আর হয়রানি নাই। তারপরও কিছুটা প্রভাব ফেলে। আমি মনে করি, আসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাজার ব্যবস্থা ও চাহিদার ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। তিনি বলেন, এই করোনার মধ্যেও ঢাকা শহরে সবজির কোনও অভাব হয়নি। সে সময় আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম যাতে পরিবহন ব্যবস্থা কোনও বাধাগ্রস্ত না হয়। এ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। তারা অতীতের সময়ের চেয়ে ভালো ভ‚মিকা রেখেছে। চাষিরা ভালো দাম পেয়েছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে সবজির দাম একটু অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে। আশা করছি, ১৫/২০ দিন পর দাম কমে আসবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক কর্মসূচি নিয়েছি। তার মধ্যে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় তিনটা ফসল অপ্রচলিত। যেগুলো সাধারণত তারা উৎপাদন করে না। সেগুলো হলো কাজুবাদাম, কফি ও গোলমরিচ। এই তিনটার বিদেশে খুবই চাহিদা আছে। এগুলো রপ্তানি করে করে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত শত শত কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। আমরাও একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। চট্টগ্রামে কাজুবাদাম প্রসেসিং কারখানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আরো উন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ সম্মান ও মর্যাদার জায়গায় অনেক উঁচুতে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশ আর ভিক্ষুদের জাঁতি বা তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নেই। বাংলাদেশের ঝুড়িতে পর্যাপ্ত খাবার আছে। পৃথিবীতে নিম্নআয়ে দেশের কাছে বাংলাদেশ এখন উদারণ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, আমরা কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকায়ন করবো। বাংলাদেশে এখন প্রচুর আম হচ্ছে। জাপান আমাদের কাছ থেকে আম নিতে চায়। এজন্য আমের জীবাণুমুক্ত করতে হবে। আমরা এজন্য উদ্যোগ নিয়েছি। তার অর্থই হলো বাংলাদেশে কৃষিকে আধুনিকায়ন করে শুধু জাপানে না সারা বিশ্বসহ দেশের জনগণকে আমরা নিরাপদ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাদ্য দিতে ও রপ্তানি করতে পারবো। বাংলাদেশ যে শুধু গার্মেন্টস শিল্পের ওপর নির্ভরশীল সেটা থাকবে না। কৃষি থেকেও আমরা আগামীতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবো।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন