৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

0
12
৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন


গৃহকোণ প্রতিবেদক : বছরের প্রথম সভায় ৪৬৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২২ সালের ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির অনুমোদনের জন্য ১০টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের ৪টি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৩টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি এবং সড়ক বিভাগের ১টি প্রস্তাব ছিল। অনুমোদিত ১০টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৪৬৪০ কোটি ৮৮ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৮ টাকা। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো বিস্তারিত তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন। অতিরিক্ত সচিব বলেন, রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগেøাব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৭ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সিসিইএ সভার অনুমোদনক্রমে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সার ৯৫৮.১৭ ডলার হিসেবে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪৬ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩৫ টাকা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে ১৩ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সিসিইএ সভার অনুমোদনক্রমে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে কাতার থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী সারের দাম নির্ধারণ করে প্রতি মেট্রিক টন ৯৫৮.১৭ ডলার হিসেবে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক প্রিল্ড (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪৬ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩৫ টাকা। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিসিএল)-এর জন্য ২৫ হাজার মেট্রিক টন রক ফসফেট আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। টিএসপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল রক ফসফেট বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ২৫ হাজার মেট্রিক টন রক ফসফেট আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উম্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহŸান করা হলে ২টি দরপত্র জমা পড়ে যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন, ঢাকা (প্রধান সরবরাহকারী: মেসার্স জেনট্রেড এফজেডই, ইউএই) এই সার সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮১ কোটি ৪৯ লাখ ৩১ হাজার ১২৫ টাকা। সভায় ‘বাপবিবো’র বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (খুলনা বিভাগ)’ প্রকল্পের আওতায় ৩২ হাজার ৪০০টি এসপিসি পোল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের প্যাকেজ নং এ-২১, লট-১ এর আওতায় ৩২ হাজার ৪০০টি এসপিসি পোল কেনার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহŸান করা হলে ৪টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে যার সবগুলিই রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ক্যাসেল কন্সট্রাকশন লিমিটেড এবং পোলস অ্যান্ড কনক্রিট লিমিটেড এসপিসি পোলগুলো সরবরাহ করবে। এজন্য ব্যয় হবে ৩১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৮ টাকা। সভায় পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড টাইড সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি-১৯৯৬ এর আওতায় বিল্ড ওন অ্যান্ড অপারেশন (বিওও) ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে যৌথভাবে দাইহান গ্রীন এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড, এইচ আই কোরিয়া কোম্পানি লিমিটেড এবং পাবনা সোলার পাওয়ার লিমিটেড। ২০ বছর মেয়াদে ‘নো ইলেক্টিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৮.১২ টাকা হিসাবে মোট ব্যয় হবে ১,৮৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। অতিরিক্ত সচিব বলেন, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড টাইড সোলার বিদুৎকেন্দ্র স্থাপনের দরপ্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি-১৯৯৬ এর আওতায় বিল্ড ওন অ্যান্ড অপারেশন (বিওও) ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি টোটাল ইরেন এস, এ ফ্রান্স নরওয়ে রিনিওবলস গ্রæপ, নরওয়ে এবং আরবান সার্ভিসেস লিমিটেড, বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০ বছর মেয়াদে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৮.১২ টাকা হিসাবে উদ্যোক্তা সংস্থাকে আনুমানিক ১,৩১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, সভায় ভোলা জেলায় ৪০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো এবং বর্ধিত মেয়াদের জন্য ট্যারিফ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্পন্সর কোম্পানি ভেঞ্চার এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড-এর সাথে সরকারের বর্ধিত চুক্তির মেয়াদ গত ২০২১ সালের ১১ জুলাই তারিখ শেষ হয়। পিজিসিবি কর্তৃক ভোলা জেলায় ২৩০/৩৩ কেভি ট্রান্সফরমার স্থাপনসহ চালু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত স্পন্সর কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আবার ৪ বছর বাড়ানোর প্রয়োজন। পিইসি কর্তৃক স্পন্সর কোম্পানির সাথে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত মূল চুক্তির ধারাবহিকতায় ভোলা জেলায় ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ ২০২১ সালের ১২ জুলাই থেকে ৪ বছর বাড়ানোর জন্য উদ্যোক্তা সংস্থার সঙ্গে ট্যারিফ কিলোওয়াট ঘণ্টা ২.৭১৭৬ টাকা হিসেবে ‘নো ইলেক্টিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে সংশোধিত চুক্তি সম্পাদনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্ধিত মেয়াদে স্পন্সর কোম্পানিকে ৩৮০ কোটি ৯০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। বর্ণিত প্রস্তাবে ট্যারিফ আগের তুলনায় কম হওয়ায় প্রায় ৪৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় সাশ্রয় হবে। অতিরিক্ত সচিব বলেন, ৩ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার ২টি এবং সড়ক বিভাগের একটি প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব ছিল। এই তিনটি ক্রয় প্রস্তাবের সঙ্গে আর্থিক সংশ্লেষণের পরিমাণ ৪৯৫ কোটি ১৮ লাখ ৮১৫ টাকা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন