অবৈধ সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড পাওয়া গেলেই কঠোর ব্যবস্থা: মেয়র আতিক

0
99
অবৈধ সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড পাওয়া গেলেই কঠোর ব্যবস্থা: মেয়র আতিক

আপডেট » ১৯ ≈ সেপ্টেম্বর ≈ ২০২০

গৃহকোণ প্রতিবেদক: অবৈধ সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, যেখানেই অবৈধ সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড, সেখানেই ব্যবস্থা। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় ডিএনসিসি এলাকায় অবৈধ সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানে এ কথা বলেন। ডিএনসিসি মেয়র বলেন, যে যতো প্রভাবশালী হোক না কেন, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এ শহরে অবৈধ কোনো বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড থাকবে না। আমি নিজে এসে দাঁড়িয়েছি। ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে নিয়ে অভিযানে এসেছি। তিনি বলেন, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ব্যবহারে অনুমতি নিতে হবে, সিটি করপোরেশনকে ট্যাক্স দিতে হবে। নিয়মের মধ্যে এসব ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, আইন ও নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাউকে কিছু করতে দেওয়া হবে না। আতিকুল বলেন, যা কিছুই করেন না কেন, সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু অনেকেই কোনো ধরনের আইন, নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে, যে যার মত সাইনবোর্ড, শপ সাইন, এলইডি সাইন লাগাচ্ছেন। অভিযানের সময় সবাই বলে, আমরা জানি না। কিন্তু আপনি যখন ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন, সেখানে সাইনবোর্ডের মাপও উল্লেখ করা হয়েছে। ৩ ফুট বাই ৪ ফুট সাইনবোর্ডের অনুমোদন নিয়ে যদি ৩০ ফুট বাই ৪০ ফুট সাইনবোর্ড তৈরি করেন, সেখানে যদি এলইডি লাইট লাগানো হয়, সেটা অবৈধ। এভাবে আইন অমান্য করে ঢাকা শহরে আপনারা ব্যবসা করতে পারবেন না। ঢাকা উত্তরের মেয়র বলেন, এভাবে সাইনবোর্ড লাগানোর ফলে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, আকাশ দেখা যায় না। অবৈধভাবে সাইনবোর্ড যারা লাগান, তারা নিজেদের অনেক ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করেন। উনারা ব্যবসা করছেন, ওঁরা পয়সা বানাচ্ছেন। তবে অবৈধ কোনো ধরনের সাইনবোর্ড শহরে থাকতে পারবে না। আতিকুল বলেন, অভিযান চলাকালে অনেকেই তাকে ফোন করে অনুরোধ করছেন, অনেকে সময় চাইছেন। কেউ বলছেন আমার সাইনবোর্ডটা ভাঙবেন না। কেউ কেউ আমাকে বলছে আপনি তো ফোন রিসিভ করেন না, আমি সবাইকে বলতে চাই। যখন মোবাইল কোর্ট চলবে, উচ্ছেদ চলবে, আমাকে কেউ ফোন করবেন না। ফোন করলেও আমি ধরব না। আগামী মাসে ডিএনসিসির অন্য এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে ডিএনসিসির সকল এলাকায় অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। শুক্রবারের অভিযান পরিচালনা করেন অঞ্চল-৭ এর আঞ্চলিক নিবার্হী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ। অভিযানে প্রায় পঞ্চাশটি অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এসব বিলবোর্ড সাইনবোর্ড নিলামে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় সকাল থেকে অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড অপসারণে অভিযান চালানো হয়। এসময় ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী, নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোতাকাব্বির আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ডিএনসিসি এলাকায় গত তিনদিনে প্রায় ১৬০০ অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, শপসাইন, প্রজেক্ট সাইন অপসারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। গত তিনদিনে অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড অপসারণের বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালনায় গুলশান, বনানী ও প্রগতি সরণিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় সাত শতাধিক অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এ ছাড়া স্পট নিলামের মাধ্যমে এসব সাইনবোর্ড ও অন্যান্য মালামাল এক লাখ ৭৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা, ট্রেড লাইসেন্স না থাকা, সরকারি কাজে বাধা এবং অন্যান্য অপরাধে এক লাখ ৯১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বুধবার একই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরও প্রায় ৬২০টি অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এ ছাড়া স্পট নিলামের মাধ্যমে এসব সাইনবোর্ড ও অন্যান্য মালামাল এক লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা, ট্রেড লাইসেন্স না থাকা এবং অন্যান্য অপরাধে ৯৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অভিযানের প্রথম দিন (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৩০০ সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এরমধ্যে গুলশান ২ এ প্রায় ১৫০টি অবৈধ সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়। অন্যদিকে বনানী ১১ নম্বর সড়কে প্রায় শতাধিক সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এ ছাড়া সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে চলাচলে বিঘœ সৃষ্টির কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া প্রগতি সরণিতে অভিযানে মোট ৫২টি সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এ ছাড়া ফুটপাত ও সড়কে অবৈধভাবে মালামাল রাখায় তা নিলামে ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা নিলামে বিক্রয় করা হয় এবং ৯টি মামলায় ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন