অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি: বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0
93
অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি: বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আপডেট »২৬≈ অক্টোবর ≈ ২০২০

গৃহকোণ প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমস্যাগুলো কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা, আমাদের সরকার কিন্তু তা করছে না। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। গতকাল রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সরকারগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটা সময় আমাদের দেশে ছিল কী? যতই দুর্নীতি হোক, যতই অন্যায় হোক সেগুলো ধামাচাপা দেওয়া হতো। আর সমস্যাগুলো ওই যে বলে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা, আমাদের সরকার কিন্তু তা করছে না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থেকে টানা তিন মেয়াদের সরকার গঠনকারী প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেখানে দুর্নীতি পাচ্ছি সে আমার যত বড় দলের হোক, কর্মী হোক যেই হোক- আমরা কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। হ্যাঁ তাতে আমাদের বিরোধী যারা তাদের লেখার সুযোগ হচ্ছে, বলার সুযোগ হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করছে। কিন্তু এই ব্যাপারে চিন্তা করছে যে আওয়ামী লীগ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতির সংবাদের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে যে রিপোর্ট হচ্ছে বা যা আমরা খবর পাচ্ছি কোথাও কোনো দুর্নীতি বা কোনো ধরনের অন্যায় হলে আমরা কিন্তু কখনো এই চিন্তা করি না- এটা করলে পরে এর সঙ্গে আমার দল জড়িত কিনা বা আমার অমুক জড়িত কিনা, বদনাম হবে কিনা, সরকারের বদনাম হবে কিনা সে চিন্তাটা আমরা করি না। আমি চিন্তা করি এখানে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা নিতে গিয়ে অনেক সময় দোষটা আমাদের ওপরই এসে পড়ে। তার মানে আওয়ামী লীগ সরকারই বোধহয় দুর্নীতি করছে, ঘটনা তা নয়। ৭৫ এরপর অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা দেশের দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে ৭৫ এরপর অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারী সরকারগুলো। প্রথমে জিয়াউর রহমান, এরপর এরশাদ, এরপর খালেদা জিয়া। তারা দুর্নীতিটাকে শুধু প্রশয় দেওয়া না, তারা নিজেরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, দুর্নীতিকে লালনপালনই করে গেছে। একই সঙ্গে তারা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আমরা কিন্তু কখনো তা করছি না। নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল থেকে দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতিহীন সাংবাদিকতাটা যেন না হয়। মানুষকে বিভ্রান্ত করে যে হলুদ সাংবাদিকতাটা, সেটা যেন না থাকে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দায়িত্বশীলতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে আপনারা কাজ করবেন। সাংবাদিকতায় নিরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখিতা চাই, দেশ ও জাতির প্রতি যেন কর্তব্যবোধ থাকে। নীতিহীন সাংবাদিকতা কোনো দেশের কল্যাণ আনতে পারে না, বরং ক্ষতি করে। নীতিহীন সাংবাদিকতাটা যেন না হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে একটা দায়িত্ববোধ নিয়ে চলতে হবে। দায়িত্ববোধটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। অহেতুক সমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সেই হলুদ সাংবাদিকতাটা যেন না থাকে। আর অনলাইনে সমাজভিত্তিক, মানবিক, মানুষের কল্যাণ, উন্নয়নের দিকে যেন মানুষের দৃষ্টি থাকে। সেই ধরনের সাংবাদিকতাই যেন হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বক্তব্য উদ্বৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছেন- নীতিহীন রাজনীতি দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারে না। তেমনি নীতিহীন সাংবাদিকতা দেশের কোনো কল্যাণ করতে পারে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সাংবাদিকতারও একটা নীতিমালা আছে সেই নীতিমালাটা সবাইকে মেনে চলার আহŸান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, দায়িত্বশীলতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে আপনারা কাজ করবেন। আপনাদের রিপোর্টগুলো অনেক সহযোগিতা করে, আপনাদের রিপোর্ট পড়ে পড়ে বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ঘটনা আসে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেই রিপোর্ট দেখেই কিন্তু অনেক অসহায় মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াই। আবার অনেক অন্যায় ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকার করতে পারি, অনেক দোষীকে শাস্তি দিতে পারি। অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করেন, সে জন্য ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি এইটুকু অনুরোধ করবো আপনারা যেমন ধন্যবাদযোগ্য কাজও করেন আবার এমন রিপোর্ট কইরেন না যেটা মানুষকে বিভ্রান্ত করে বা মানুষ বিভ্রান্তির পথে যায়। শেখ হাসিনা বলেন, আসলে সংবাদপত্র হলো সমাজের দর্পণ। সেই সমাজের দর্পণ যেটা হবে সেটা যেন মানুষের চিন্তা চেতনাটা যেন অন্তত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। তাদের ভেতরে মানবতাবোধটা যেন থাকে। তারা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে। করোনার মহামারীতে সাংবাদিকদের সহায়তার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে অনেকেই নানা রকম সমস্যায় ভুগছে। দুস্থ, অসহায় সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আমরা সেখানে প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা ৩শ ৫০ জন সাংবাদিকের মাঝে বিতরণ করেছি। সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে একটু মামলা হলেই সাংবাদিকদের চট করে গ্রেপ্তার করা হতো। আমরা কিন্তু সেটাও সংশোধন করে দিয়েছি। সেদিক থেকেও আমরা সাংবাদিকদের জন্য নানা রকম সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দিয়েছি। যাতে হয়রানির সম্মুখীন না হতে হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর সন্তান হিসেবে আমিও সাংবাদিক পরিবারেরই সদস্য। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় পুর্নব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আমরা চাই দেশকে সেভাবে এগিয়ে নিতে। জাতির পিতার স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্র্য সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমাদের প্রচেষ্টাই হচ্ছে মানুষের জীবনটাকে আরও উন্নত করা। গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্রান্তে থেকে রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি, উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহŸায়ক ও ডিআরইউর সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, উদযাপন কমিটির কো-চেয়ারম্যান, ডিআরইউর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ফিরোজ, উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহŸায়ক ও ডিআরইউর সহ-সভাপতি নজরুল কবির, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুর রহমান।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন