একনেকে ৫১৮৯ কোটি টাকার তিন প্রকল্প অনুমোদন

0
113
একনেকে ৫১৮৯ কোটি টাকার তিন প্রকল্প অনুমোদন

গৃহকোণ প্রতিবেদক \ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাঁচ হাজার ১৮৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা খরচে তিনটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে দুই হাজার ৮৫৫ কোটি আট লাখ, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৬৩ কোটি ৮৫ লাখ এবং বিদেশি ঋণ দুই হাজার ২৭০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি ভবন থেকে একনেক সভায় অংশ নেন। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সচিব জানান, একনেক সভায় অনুমোদিত মোট তিনটি প্রকল্পের মধ্যে দুটি সংশোধিত এবং একটি নতুন প্রকল্প। সংশোধিত দুটিই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। সেগুলো হলো সোনাপুর (নোয়াখালী)-সোনাগাজী (ফেনী)-জোয়ারগঞ্জ (চট্টগ্রাম) সড়ক উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্প। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ১৭২ কোটি ৬৫ লাখ, প্রথম সংশোধনীতে হয় ১৮৫ কোটি ৯৬ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াল ২৯৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলে এখন তা বাড়িয়ে করা হলো ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। আর ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্পে মূল খরচ ছিল ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা, প্রথম সংশোধনীতে চার হাজার ৭৬৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বেড়ে হলো ১৬ হাজার ৬৬২ বোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হলো ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত। নতুন প্রকল্পটি হলো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা’। এতে খরচ হবে ৩১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
জানা গেছে, উত্তরবঙ্গে শিল্প-কারখানার প্রসারসহ পাশের দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে চারলেন হচ্ছে এলেঙ্গা থেকে রংপুর মহাসড়ক। রংপুর মহাসড়ক থেকে বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা হয়ে ভারত-নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে মহাসড়কটি। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা মসৃণ করতে ১৯০ কিলোমিটার সড়কটি চারলেনে রূপ দেওয়া হবে। এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের স্বপ্নের প্রকল্প এটি। তবে প্রকল্পের মোট ব্যয় ও সময় আরো বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। দেখতে দেখতে চার বছর গড়িয়েছে কাজ। অথচ প্রকল্পের আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। মেয়াদ বাকি ছিল ২০২১ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। একনেক সভায় আরো ৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গবাসীর স্বপ্নপূরণে আরো তিন বছর বাড়তি সময় লাগবে। বর্ষা মৌসুম, কোভিড-১৯ ও জমি অধিগ্রহণ বিলম্বিত হওয়ায় কাজের অগ্রগতি কম হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখনো সড়ক ও সেতুগুলোর সার্ভে এবং ডিজাইনের কাজ চ‚ড়ান্ত হয়নি। মাঠ পর্যায়ের পূর্তকাজের তদারকির কাজ চলমান। সাতটি নির্মাণ প্যাকেজের আওতায় সড়ক ও সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে স¤প্রতি। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪৬১ মিটার দৈর্ঘ্যরে ২৬টি সেতু, ৪১১ মিটারের একটা রেলওয়ে ওভারপাস ও ১১টি স্টিল ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এলেঙ্গায় ১ হাজার ৫৩৮ মিটার, কড্ডার মোড়ে ৩৯৬ মিটার ও গোবিন্দগঞ্জে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু ইপিজেড ও গোবিন্দগঞ্জ পলাশবাড়ী এলাকায় নতুন করে দু’টি ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ যোগ হয়েছে।
এদিকে, উদ্বোধন করা হয়েছে ‘ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা’ দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোল চত্বরটির চারপাশে চারটি আন্ডারপাস, একটি ফ্লাইওভার ও চারটি করে আলাদা লেন নির্মাণ করা হয়েছে, যেন কোনো গাড়ির সিগন্যালে না পড়তে হয়। প্রতিটি লাইনের গাড়ি তার লেন ধরে চললে কোনো ধরনের যানজটে না আটকেই চলে যেতে পারবে গন্তব্যে। ভাঙ্গার মতো হাটিকুমরুলে দৃষ্টিনন্দন ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে এশিয়ান হাইওয়ে সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) ও বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরে (বিসিআইএম) নতুন করে বাংলাদেশের আটটি মহাসড়ক যুক্ত হতে যাচ্ছে। এই সড়কগুলোর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৬শ কিলোমিটার। ১৯০ কিলোমিটার সড়কটি এর একটি অংশ। এই সড়কের মাধ্যমে রংপুর-সৈয়দপুর-বাংলাবান্ধা হয়ে ভারতে প্রবেশ করা যাবে। ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য প্রসারে এই করিডোরটি অন্যতম অবদান রাখবে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজ করতেও রুটটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে। নানা কারণে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ রুটটি ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সরসারি দ্রæত সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় এ রুটে প্রতিদিন ১২ থেকে ২৯ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ২০২০ সালে এই সংখ্যা ৪৩ হাজার ছাড়াবে। এসব চিন্তা মাথায় রেখেই প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় রুটের উভয়পাশে ¯েøা মুভিং ভেহিক্যাল ট্রাফিক (এসএমভিটি) লেন নির্মাণ করা হবে। ১৯০ কিলোমিটার রুটের যেখানে যানজট বেশি হবে এমনকী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য হবে ২ হাজার ৬৩৫ মিটার।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন