বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঘর পাচ্ছেন ফুলবাড়ির রুবিনা

0
75
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঘর পাচ্ছেন ফুলবাড়ির রুবিনা

আপডেট »১৫≈ অক্টোবর ≈ ২০২০

গৃহকোণ প্রতিবেদক: দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের স্বামী পরিত্যক্তা প্রতিবন্ধী নারী রুবিনা বেগমের দুর্দশার কথা জানতে পেরে সরকারের আশ্রায়ন প্রকল্পে তাকে ঘর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন জানান, ফুলবাড়ীর রুবিনার জন্য ইতোমধ্যে ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি সেমি পাকা ঘর নির্মাণে অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে তার জন্য ঘর বানিয়ে দেওয়া হবে। দৌলতপুর ইউনিয়নের মধ্যমপাড়া গ্রামের আবদুল ওয়াহেদের মেয়ে রুবিনা বেগম (৩৬) মানসিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছেন। পনের বছর আগে তার বিয়ে হলেও দেড় বছরের মাথায় তাকে ফেলে স্বামী বিদেশে চলে যান। সেই থেকে গরীব অসহায় বাবার সংসারেই থাকতেন রুবিনা। মা মারা গিয়েছিলেন আগেই, কয়েক মাস আগে বাবাও মারা যান। অসহায় রুবিনার একমাত্র সঙ্গী কেবল তার ছোট ভাই আশরাফুল আলম, তিনিও শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোট ভাইকে নিয়ে বাবার রেখে যাওয়া জরাজীর্ণ মাটির ঘরে থাকেন রুবিনা। বর্ষার পানিতে ধুয়ে গেছে মাটির ঘরের দেয়াল। কিছুদিন আগে রান্নাঘরও ভেঙে গেছে। বৃষ্টির দিনে ভাঙা টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। কিন্তু ঘর মেরামত করা বা নতুন ঘর তোলার সামর্থ্য তাদের নেই। গ্রামে নতুন কোনো মানুষ পেলেই নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে সাহায্য চাইতেন রুবিনা। স¤প্রতি এক সাংবাদিককে পেয়ে রুবিনা তার ঘর আবেদন সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। রুবিনার দুর্দশার কথা গণমাধ্যমে উঠে এলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী রুবিনার জন্য ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয় বলে সরকারপ্রধানের দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, সরকারের আশ্রায়ন প্রকল্পে ‘আবাসিক ভবন নির্মাণ’ খাতের আওতায় রুবিনা ও আশরাফুলকে একটি সেমি পাকা ঘর নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্ধারিত নকশায় দ্রুততম সময়ে ঘর নির্মাণ করে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’- এই স্লোগান নিয়ে মুজিববর্ষের মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৯৩২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৩৬টি পরিবারের পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালের ১৯ মে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে কক্সবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে তিনি গৃহহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। এরপর ওইবছরই সরকার ‘আশ্রয়ন’ নামে একটি প্রকল্প নেয়, যার আওতায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৪০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৪৯টি ভ‚মিহীন-গৃহহীন-অসহায়-ছিন্নমূল পরিবারের পুনর্বাসন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫৬ জনকে আয়বর্ধক পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭১৮টি পরিবারকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। সবুজায়নের লক্ষ্যে এ প্রকল্পভুক্ত প্রতিটি গ্রামে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে বলে প্রকল্প পরিচালক জানান।
এছাড়া উপকারভোগীদের জীবনমানের উন্নয়নে গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি এলাকা থেকে গৃহহীনদের খুঁজে খুঁজে বের করে ঘর করে দেওয়া হচ্ছে।
আশ্রায়ন প্রকল্প ছাড়াও গৃহহীনদের আবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তহবিলসহ বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন