শিশুর যত্নে ভুলগুলো

0
80
শিশুর যত্নে ভুলগুলো

গৃহকোণ লাইফস্টাইল ডেস্কঃ প্রত্যেক মা-বাবা সন্তানের যত্নে অনেক বেশি সচেতন থাকেন। কিন্তু আমাদের সমাজে শিশুর যত্নে এমন কিছু ধারণা প্রচলিত, যেগুলো তাদের উপকার তো করেই না, উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়-
অল্প হলেও দেয়া যায়
কিছু ওষুধ আছে যেগুলো বড়দের জন্য উপকারী হলেও শিশুদের জন্য হতে পারে মারাত্মক। অনেক সময় আমরা ভাবি, বড়দের ওষুধ পরিমাণে কম করে শিশুদের দেয়া যায়। ধারণাটি ভুল। যেমন- কাশির ওষুধ শিশুদের জন্য তৈরি করা হলেও চার বছর বা তার চেয়ে কম বয়সীদের জন্য এটি মোটেও ভালো নয়। এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শিশুরা অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারে। সেই সঙ্গে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিষণœতা জেঁকে বসতে পারে। এ ধরনের ওষুধ বড়দের কফ-কাশি কিংবা সাইনাসের সমস্যা দূর করলেও নবজাতক কিংবা ছোট শিশুর জন্য একেবারেই প্রযোজ্য নয়।
দাঁত উঠলে জ্বর আসে
দাঁত উঠলে শিশুর জ্বর আসবে- এমন ধারণা প্রচলিত আমাদের সমাজে। কিন্তু এটা একেবারেই ভুল। এক গবেষণায় দেখা গেছে, জ্বর আসার সঙ্গে দাঁত ওঠার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই দাঁত ওঠার সময় শিশুর জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
শিখতে সাহায্য করে ভিডিও
ধারণা করা হয়, শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো তাদের মেধা বিকাশে সাহায্য করে। কিন্তু তাতে দুই বা তার চেয়ে বেশি বয়সের শিশুরা উপকৃত হলেও এর চেয়ে কম বয়সীদের ক্ষেত্রে তা বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখে না। উল্টো এতে শিশুর ভাষা শেখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
হাঁটতে শেখায় ওয়াকার
শিশুদের হাঁটা শেখাতে বেবি ওয়াকারের সাহায্য নেন অনেক মা-বাবা। প্রচলিত আছে, ওয়াকার ব্যবহার করলে শিশু তাড়াতাড়ি হাঁটতে শিখবে। তবে গবেষণায় পাওয়া তথ্য কিন্তু ভিন্ন। ওয়াকার শিশুর নিজে নিজে হাঁটার ক্ষমতা ধীর করে ফেলে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও বেশি থাকে। ওয়াকার ব্যবহার করে শিশু সিঁড়ির কাছাকাছি চলে যেতে পারে। আর মা-বাবা যদি খেয়াল না করেন, তবে ঘটে যেতে পারে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা।
কানের সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর মায়ের দুধ
শিশুর কানে সংক্রমণ হলে মায়ের বুকের দুধ কয়েক ফোঁটা প্রয়োগে ভালো হয়ে যাবে। না, বাস্তবে ব্যাপারটা একেবারেই ভিন্ন। এতে কানের সমস্যা দূর তো হয়ই না, উল্টো নতুন করে সংক্রমণ হয়। বুকের দুধে কিছু অ্যান্টিবডি আছে, যা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু এতে প্রচুর চিনি রয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়াকে সহজেই আকর্ষণ করে। কাজেই শিশুর কানে যখন দুধ দেয়া হবে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দ্রুতই সেখানে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন