এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন আগামী সপ্তাহে, বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

0
103
এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন আগামী সপ্তাহে, বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

আপডেট »০১ ≈ অক্টোবর ≈ ২০২০

গৃহকোণ প্রতিবেদক: আগামী সপ্তাহে উচ্চমাধ্যমিকতথা এইচএসসি সমমান পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের চার সপ্তাহ সময় দেয়া হবে। তবে কোনো শিক্ষার্থী বিশেষ কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। গতকাল বুধবার শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক (ভার্চুয়াল) সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমন কথাই জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহাবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা না নিয়ে আগের পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে সার্টিফিকেট প্রদান করার প্রস্তাব করছেন অনেকে। এটিকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, এটি একটি প্রস্তাব হতে পারে। তবে পরীক্ষা ছাড়া সার্টিফিকেট দিলে তারা যখন চাকরি নিতে যাবে তখন তাদের বলা হবে, ও তোমরা ২০২০ সালের পরীক্ষা ছাড়া পাস করা ব্যাচ। এমন পরিস্থিতি তৈরি না করতে আমরা পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, কবে থেকে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা শুরু হবে তা আগামী সপ্তাহের সোম অথবা গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা হবে। পরীক্ষা আয়োজনে প্রশ্ন, উত্তরপত্র তৈরিসহ সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। এখন শুধু পরীক্ষা শেষ করা বাকি রয়েছে। পরীক্ষা দিতে গিয়ে যাতে কারও ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দেব। বিশেষ কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারলে আমরা দ্রæত সময়ের মধ্যে তার পরীক্ষা নেব। তবে এবার সব বিষয়ের পরীক্ষা না নিয়ে মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। কোন কোন বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হবে সেটি আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ যদি বিশেষ কারণে পরীক্ষা দিতে না পারে তবে তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হবে। সব কিছু আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। উল্লেখ্য, এবার এপ্রিলেই এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। তবে করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় স্থগিত করা হয় পরীক্ষাটি। গত ১৭ মার্চ থেকে দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
আরও বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিতে না ফেলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। দীপু মনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতে ছুটি আরও বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে আগামী দু-একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে কতদিন ছুটি বাড়ানো হবে তা জানিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি কত দিন বাড়ানো হবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে শতভাগ করোনামুক্ত হওয়া সম্ভব নয়, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে কতটা সফলতা আসছে সে বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় বলে তা খোলার চিন্তা আমাদের করতে হবে। বর্তমানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের সব প্রতিষ্ঠান সচল হয়েছে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে না রেখে সাস্থ্যবিধি মেনে চালু করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে। সবার মুখে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পাঠদান করানো হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও এক মাস বাড়তে পারে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় ছুটি বাড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আগামী ৩ অক্টোবরের আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘোষণা দেয়া হবে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে কয়েক ধাপে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বর্তমানে নতুন করে এ ছুটি বাড়ানো হচ্ছে।
অক্টোবর থেকে এমপিওভুক্তির আবেদন শুরু: এমপিও নীতিমালা ২০১৮-তে পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যে এটি সংশোধনের কাজ শেষ করে চ‚ড়ান্ত করা হবে। সেই মাস থেকে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য যে নীতিমালা করা হয়েছিল তার মধ্যে অনেক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। আমরা সেসব সংশোধনে কাজ শুরু করেছি। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এ বিষয়ে একাধিক সভা হয়েছে। এ নীতিমালাকে যুগোপযোগী করার কাজ শুরু হয়েছে। নতুন নতুন বিষয়গুলোর পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব শিক্ষকরা নিয়োগ পাওয়ার পর যেন এমপিও নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি না হয়, সেটা মাথায় রেখে সংশোধন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগামী মাসের মধ্যে এমপিওভুক্তি নীতিমালা সংশোধন কাজ চ‚ড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে। অক্টোবর থেকেই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে এ বছর আবেদন যাচাই-বাছাই ও তালিকা প্রকাশ করা শেষ করা সম্ভব না হলেও, দ্রæত সময়ের মধ্যে করতে সকল কর্মকর্তারা সার্বিক চেষ্টা করছেন। এমপিওভুক্তির কার্যক্রম অনেক কঠিন ও জটিল, তাই এটি শেষ করতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়ে থাকে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন