ঋণখেলাপের নতুন কৌশল ব্যাংকগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে

0
81
ঋণখেলাপের নতুন কৌশল ব্যাংকগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে


ঋণখেলাপের অপসংস্কৃতি থেকে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এটা যেন বাংলাদেশের নিয়তি। ঋণখেলাপিরা বসে থাকার লোক নন। এবার ব্যাংক থেকে টাকা বের করতে ভিন্ন কৌশল ধরেছেন দেশের শীর্ষ খেলাপিরা। তাঁরা উত্তরসূরিদের নামে ভিন্ন গ্রæপ প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এরইমধ্যে চট্টগ্রামভিত্তিক তিনটি বড় গ্রæপের খেলাপিদের উত্তরসূরিরা ভিন্ন গ্রæপ তৈরি করে কয়েকটি ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদনও করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা ঋণখেলাপিদের ঋণ নেওয়ার আরেকটি কৌশল। ব্যাংকগুলো সতর্ক হলে এ কৌশল অকার্যকর করা সম্ভব; কিন্তু যাঁরা ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করবেন, তাঁরা দেখতে পারেন নতুন গ্রæপগুলো কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে। তাদের পূর্বসূরি কারা বা তাদের পুঁজির উৎস কী। গ্রæপগুলো যদি পূর্বসূরিদের টাকায় করা হয়ে থাকে, তাহলে সে টাকা আদায় না করে আবার ঋণ দিলে ব্যাংকগুলো ঝুঁকিতে পড়বে।
জানা যায়, চট্টগ্রামের আলোচিত কয়েকটি গ্রæপের কাছে সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি ব্যাংকের পাওনা প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। এ টাকা আদায়ের জন্য আদালতে মামলা করা হলেও তা প্রায় এক দশক ধরে বিচারাধীন। এই গ্রæপগুলোর উত্তরসূরিরাই এখন ভিন্ন গ্রæপ করে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পিতৃপুরুষদের গ্রæপের টাকায় ভিন্ন গ্রæপ গঠন এবং পূর্বসূরিদের অফিস, গুদাম, কারখানা, জমি ইত্যাদি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ করলেও উত্তরসূরিরা সেসবের দায় নিতে চান না। নিয়মানুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা গ্রæপ ঋণখেলাপি হলে নতুন কোনো ঋণ নিতে পারে না। জাতীয় নির্বাচনেও অংশ নিতে পারে না। তাই নতুন ঋণ পাওয়ার জন্য গ্রæপগুলো খেলাপি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে থাকে। খেলাপের কারণে এ গ্রæপগুলোও নতুন ঋণ নিতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতিমালায় ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃ তফসিল করা যায়। এ সুযোগও কাজে লাগাননি কেউ কেউ। তাই কৌশল হিসেবে গ্রæপগুলোর ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো হস্তান্তরের মাধ্যমে ভিন্ন গ্রæপ গঠন করে উত্তরসূরিদের মাধ্যমে ব্যবসা চালানো হচ্ছে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নতুন কায়দায় ঋণ নেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক কম্পানি আইন সংশোধন করে তাদের বর্জন করতে হবে। কোনোক্রমেই তাদের ঋণ দেওয়া ঠিক হবে না। ব্যাংকের স্বার্থেই এ প্রবণতা ঠেকাতে হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন