একমাসে আক্রান্ত দ্বিগুণেরও বেশি ডেঙ্গু মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিন

0
68
বর্ণবাদ ও সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি

করোনা মহামারি এখনো বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম। প্রথম দফা সংক্রমণ কিছুটা কমতে না কমতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ। ইউরোপের অনেক দেশে তা আগের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বাংলাদেশেও শিগগিরই দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ দেখা দিতে পারে এবং তা আগের চেয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। করোনার এই আশঙ্কার মধ্যেই দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি বছর রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ও সন্দেহজনক ডেঙ্গুজ¦র নিয়ে ৫৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫৫৬ জন। বর্তমানে ২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি। আর চলিত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১২১ জন। মারা গেছেন একজন। যা গত মাসে ছিল মাত্র ৪৭ জন। অর্থাৎ একমাসে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে এই সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু সন্দেহে এ পর্যন্ত চারজন রোগীর মৃত্যুর তথ্য সরকাররে রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। দু’জনের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে আইইডিসিআর নিশ্চিত হয়েছে, একটি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত কারণে হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের তথ্য থেকে জানা যায়, ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নয়জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ডেঙ্গু নিয়ে ২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এদের সবাই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। জানা যায়, চলতি বছরে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ও সন্দেহজনক ডেঙ্গু নিয়ে ৫১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি ১৯৯ জন, ফেব্রæয়ারি মাসে ৫৪ জন, মার্চ মাসে ২৭ জন, এপ্রিল মাসে ২৫ জন, মে মাসে ১০ জন, জুন মাসে ২০ জন, জুলাই মাসে ২৩ জন, আগস্ট মাসে ৬৮ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৪৭ জন, অক্টোবর মাসের এ পর্যন্ত ১২১ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শীতে যদি করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা সত্যি হয় তাহলে তার সাথে ডেঙ্গু রোগী যুক্ত হওয়া ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো অবস্থা হয়ে দাঁড়াবে। তাই আক্রান্ত হবার পর চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের সারিয়ে তোলার সক্ষমতার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মশার আবাস ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে পারলেই এডিস মশা নির্মূল করা যাবে। রাজধানীসহ সারা দেশে এডিস মশামুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রস্তুত রয়েছে। আমরা আশা করি, অন্যান্য বছরের মতো এবার যেন দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ না নেয়- এজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন