করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

0
73
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভ এখন আলোচনায়। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় সা¤প্রতিক সময়ে নতুন করে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিশেষজ্ঞরাও চিন্তিত। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, শীত সামনে রেখে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মাঠ প্রশাসন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের জেলা-উপজেলার প্রশাসনকে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে সম্ভাব্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, এসংক্রান্ত পরামর্শ চেয়ে চিঠি দিয়েছে। জেলা প্রশাসকরা প্রথম ধাপের করোনা পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে যেন পরিকল্পনা সাজান, সে কথাও মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬৪ জেলার ডিসিরা সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা তৈরি করছেন। জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের প্রশাসন এরইমধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ করার চিন্তা চলছে। অর্থাৎ যারা মাস্ক পরিহিত থাকবে না, তারা সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবা পাবে না। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যাতে এই নিয়ম চালু করে, সেই উদ্যোগও নেবে জেলা প্রশাসন। এজন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিকভাবে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, মসজিদের ইমাম, অন্যান্য ধর্মের স্থানীয় শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে স্থানীয় প্রশাসন। এর বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শহরের জনাকীর্ণ মোড়ে মোড়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার পরিকল্পনাও করছেন ডিসিরা।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশে সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের অসুখ শুরু হতে পারে উপসর্গবিহীন অজানা রোগীদের কাছ থেকে, যারা এই ভাইরাস বহন করছে কিংবা অন্য দেশ থেকে আসা রোগীদের কাছ থেকে। এই রোগ বেশি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে শীত মৌসুমে, যখন মানুষ ঘরের ভেতর বেশি সময় কাটায়। করোনার টিকা আসছে এমন কথা বেশ কিছুদিন থেকে শোনা গেলেও এখনই নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না কখন এটা পরিপূর্ণ টিকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা যখনই ব্যবহার করা হোক না কেন, আর এর কার্যকারিতা যা-ই হোক না কেন, এটা ঠিক যে সুস্থ থাকা পরিপূর্ণভাবে নির্ভর করছে মানুষের জীবনযাপনের ওপর অর্থাৎ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলাÑমাস্ক দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে রাখা, ভিড় এড়িয়ে চলা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করা ইত্যাদির মাধ্যমে এই রোগ এড়িয়ে চলা সম্ভব। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ঢেউ, দ্বিতীয় ঢেউ বা তৃতীয় ঢেউ নিয়ে নানা ধরনের কথা বলা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, এসব কথা খুব একটা প্রমাণসাপেক্ষ নয়। প্রকৃতপক্ষে অনেক দেশেই এটি প্রথম ঢেউয়ের পিকে আসেনি বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। প্রথম ঢেউয়ের পর দ্বিতীয় ঢেউ এবং এরপর তৃতীয় ঢেউ আসে। তবে আমাদের দেশে এখন থেকেই যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তাতে যথেষ্ট আশাবাদী হওয়া যায়; যদিও সব কিছু নির্ভর করছে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর। আমরা আশা করব, সরকারের চেষ্টার পাশাপাশি দেশের মানুষও করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন