করোনায় বেকারদের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়োগে স্থবিরতার দ্রুত অবসান হোক

0
78
বর্ণবাদ ও সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি

করোনাভাইরাসের মহামারী পরিস্থিতির কারণে দেশে গত ৬ মাস ধরে সরকারি ও বেসরকারি সব পর্যায়ে সব ধরনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা চার লাখ। আর এইচএসসি ও এসএসসি পাস বেকারের সংখ্যা ১৬ লাখের বেশি। অর্থাৎ নিয়োগ স্থগিত থাকায় সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষিত বেকার। এ ছাড়া করোনার প্রভাবে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ার কারণে বেসরকারি পর্যায়ে চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই। এ পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই তাদের ভোগান্তি বাড়বে। এমনকি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অনেকেই আবার কাজ ফিরে পাবেন কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে বেকারত্বের হার বেড়েছে নিঃসন্দেহে। এ দেশে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি নিয়ে চাকরির জন্য লড়াই করতে হয় লাখ লাখ তরুণকে। অনেক শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়। এর মধ্যে প্রতি বছর বিসিএস পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় থাকেন হাজার হাজার তরুণ। নন-ক্যাডার সরকারি ও বেসরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেন আরও বেশিসংখ্যক পরিক্ষার্থী। করোনা পরিস্থিতির কারণে সব চাকরির পরীক্ষাই আটকে গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স আর বেশিদিন নেই। স্বভাবতই তারাই বেশি উদ্বিগ্ন। বস্তুত করোনা যুব স¤প্রদায়ের হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক।
আয়-রোজগারের পথ বন্ধ থাকলে সমাজে যে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। এ পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি সব পর্যায়েই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সচল করা উচিত বলে মনে করি আমরা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই দেশে অর্থনৈতিক কার্যক্রম অনেকটা সচল হয়েছে। পুরোদমে চলছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। সেক্ষেত্রে নিয়োগ স্থগিত রাখার কোনো যুক্তি নেই। শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও এ দায়িত্ব এড়াতে পারে না। বর্তমান মহামারী সংকটকালে দেশের স্বার্থে বিষয়টি সবাই মানবিক দৃষ্টিতে দেখবেন, এটাই কাম্য।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন