ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যে

0
97
ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যে

বেশ কিছুদিন ধরে অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার। দিনে দিনে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি পণ্য। অথচ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি নেই বললেই চলে। করোনাকালে নিত্যপণ্যের বাজারের এমন অস্থিরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, খুচরা বাজারে কেজিতে চালের দাম বেড়েছে প্রায় পাঁচ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া দাম বেড়েছে ভোজ্যতেল, চিনি ও রসুনের। তবে নতুন করে আবারও দাম বেড়েছে সবজির, যা রীতিমতো বিস্ময়কর। সবজিভেদে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ৬০ টাকার নিচে যেন মিলছেই না কোনো ধরনের সবজি। বরবটি ঢেঁড়স, করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে। প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, প্রতি হালি কাঁচকলা ৪০ টাকা, প্রতি পিস জালি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে বাড়তি রয়েছে শাকের দামও। এক আঁটি পুঁইশাকের দাম ৫০ টাকা। অনেকেই বলছেন, ব্রয়লার মুরগির কেজি আর সবজির কেজি প্রায় কাছাকাছি। বাজারে খাসির মাংসের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংস, মাছ, মুরগি, ডাল ও গরম মসলার দাম। বিক্রেতারা বলছেন, সবজির মৌসুম না হওয়ায় প্রতি বছর এ সময়ে শাক-সবজির দাম বাড়তি থাকে। এবার বন্যায় শাক-সবজি ও ফসলের ক্ষতি হওয়ায় দাম আরও বেড়েছে। আর ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে একটি জিনিসের দাম বাড়লে অন্যটির দাম বাড়িয়ে দেন বিক্রেতা। এটা যেন বাজার সংস্কৃতির একটি অংশ। দাম বাড়ার পেছনে বরাবরের মতো এবারও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কাজ করছে। এটা হচ্ছে অসৎ ও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কারসাজি। জনসাধারণকে জিম্মি করাই এদের প্রধান কাজ।
আমরা মনে করি দেশের অসৎ ও অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হলে চলবে না। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে, তাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এরা রমজান মানে না করোনাভাইরাসকালেও জনগণের স্বার্থের দিকে নজর দেয় না। এরা বাজার সন্ত্রাসী। কীভাবে অসৎ উপায় অবলম্বন করে দ্রম্নত ধনী হওয়া যায় সেটাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। তাদের অতি লোভী মানসিকতার কারণেই দেশের সাধারণ জনগণকে বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। অবাক ব্যাপার যে, বাজারে নিত্যপণ্যের কোনো ধরনের সরবরাহ সঙ্কট নেই, তারপরেও হুহু করে দাম বাড়ছে। অথচ করোনাকালে মানুষের হাতে টাকা নেই।
মনে রাখতে হবে, বাজার নিয়ে অতীতে অনেক পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, কোনো কাজ হয়নি। বিক্রেতাদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটা সত্যিই হতাশাজনক চিত্র। সরকারের উচিত এই দুর্যোগকালে নিত্যপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণ করা। সামনে সময় আরও কঠিন হতে পারে এ কথা মাথায় রেখে দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন