পরম শ্রদ্ধেয় চির সংগ্রামী নেত্রী শহীদ আইভি রহমান

0
72
পরম শ্রদ্ধেয় চির সংগ্রামী নেত্রী শহীদ আইভি রহমান

আপনি জন্মেছিলেন সোনার চামচ মুখে নিয়ে ইংলিশে গোল্ড মেডেলপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ পিতা অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আহমেদ এর ঘরে। জাগতিক নিয়মে একদিন পানি দিয়েছিলেন সোনার চামচ মুখের এক রাজপুত্র জননন্দিত সংগ্রামী জন নেতা প্রয়াত মহামান্য রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মোঃ জিল্লুর রহমানকে। দু’জন দু’জনার নিজের মতো করে সাজালেন সুখের সোনার সংসার। রাজপুত্র স্বামী পেশায় বিজ্ঞ আইনবিদ ছিলেন। সংসারে বিত্ত, বিলাস, বৈভব এসব কিছুরই কমতি ছিল না। সে প্রাচুর্যের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে ইচ্ছে করলেই দু’জনই পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনকে করতে পারতেন কন্টকমুক্ত রাজকীয় বর্ণাঢ্য আনন্দময় জীবন। দেশ-বিদেশ ঘুরে দু’জনার জীবনকে ভোগ করতে পারতেন ষোল আনা। কিন্তু তা না করে জীবন সঙ্গী স্বামী জননন্দ্রিত অহিংস পুরুষ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত মহামান্য রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মো. জিল্লুর রহমানের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করলেন রাজনীতিতে। এদেশের দারিদ্র পীড়িত, ভূঁখা-নাঙ্গা অধিকার হারা মানুষগুলো আপনাদের দুজনকেই হাতছানি দিল। আপনারা দুজনই খেটে খাওয়া বঞ্চিত মানুষগুলোর হাতছানিতে সাড়া দিলেন। মহাসুখের আনন্দময় রাজকীয় জীবন-যাপনে অভ্যস্থ না হয়ে নেমে এলেন রাজপথে। সাথী হলেন নিরন্ন বস্ত্রহীন কৃষক শ্রমিক সর্বহারা মানুষের। একদিন যেমন তাঁকে সোনার চামচে পানি দিয়েছিলেন, রাজপুত্র জিল্লুর রহমান কে জীবন সঙ্গী করে নিয়েছিলেন, গড়ে ছিলেন সুখের সংসার। প্রিয় স্বামীর প্রতি অগাধ ভালবাসা আর বিশ্বাসে আস্থাশীল হয়ে গণমানুষের আকর্ষণে হয়ে গেলেন তাঁর রাজনৈতিক জীবন সংগ্রামের সাথী। নিজেদের জীবনের সুখ-সাচ্ছন্দ্য বিলাসবহুল জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞাণ করে পদার্পন করলেন রাজপথে, অবগাহন পরলেন দুঃখের সাগরে। বললেন বুভুক্ষু, হাড্ডিসার, সম্বলহীন, আশ্রয়হীন মানুষগুলোর কথা, বললেন দেশবাসীর কথা। তাদের হয়ে লড়াই করলেন, সংগ্রাম করলেন, তাদের মিছিলে নেতৃত্ব দিলেন, তাদের কাতারে একাকার হলেন। হলেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। এভাবেই রাজপথকে করে নিলেন স্থায়ী ঠিকানা। শোষিত-বঞ্চিত গণ মানুষের পক্ষে রাজপথে স্লোগান দিয়ে ঝাঁঝালো মিছিলের নেতৃত্বদানকারী, অগ্রসেনানীর এভাবে চলছিল জীবন। এরিমধ্যে ২০০৪ সালে বন্যার সময় স্বামীসহ ছুটে এলেন নিজেদের পৈত্রিক নিবাস ভৈরবে। কোথাও এক হাঁটু পানি কোথাও কোমর পানি ঠেলে পৌঁছলেন বানভাসী মানুষগুলোর দ্বারে দ্বারে। স্বচক্ষে অবলোকন করলেন দূর্দশাগ্রস্থ মানুষগুলোর দূর্বিসহ জীবন। হাত বাড়ালেন সহযোগীতার, সাধ্যানুযায়ী সেবা ও ত্রাণ বিতরণ করলেন তাদের মাঝে। অল্প প্রাপ্তিতে তুষ্ট মানুষগুলো আপনাকে দুঃখের সাথী, সমব্যাথী পেয়ে খুশী হল, কৃতার্থ হল তারা। তারপর লড়াই সংগ্রাম মুখর জীবনের ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে গণমানুষের সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল নিয়ে এলেন বঙ্গবন্ধু এভিন্যুতে, সন্ত্রাস নৈরাজ্য বিরোধী সমাবেশে। দিনটা ছিল শনিবার ২১ আগস্ট ২০০৪ সাল। লোকেলোকারন্য সমাবেশ চলছিল, জননেত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হল, চারদিক থেকে সভামঞ্চের উপর মহুমহু আর্জেন্ট গ্রেনেড নিক্ষেপ। ঘাতকদের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড বিস্ফোরণে আমার প্রিয় নেত্রী আইভি রহমানের দেহ ছিন্ন ভিন্ন হল, রক্তাক্ত হলেন, লুটিয়ে পড়লেন রাজপথে। যে রাজপথ ছিল আপনার ঠিকানা সে রাজপথে প্রাণ বিসর্জন দিলেন, মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করতে গিয়ে শাহাদাৎ বরণ করলেন। হে জননী আপনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ২১ আগস্টের সমাবেশে উপস্থিত থাকতে, কিন্তু আমি তো ২০ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হলাম, অচেতন অবস্থায় আমাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সিটিটিউটের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে অসাড়, অচেতন অবস্থায় ভর্তি করা হল। ২৬ আগস্ট যখন হৃদরোগ ইন্সিটিটিউটে জ্ঞান ফিরল তখন সব কিছু শেষ …..। আপনি বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকে। অচেতন ছিলাম বলে আমি আপনার জানাযা দাফনে শরীক হতে পারিনি। সে ব্যাথা আজো আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আমরা দেশবাসী জেনে গেলাম এই লোহমর্ষক হত্যাকান্ডে মূল হোতা খালেদা জিয়া ও তার কুলাঙ্গার সন্তান তারেক রহমান তৎকালীন বিএনপি, জামায়াত জোট সরকার সরাসরি জড়িত। সারাদেশবাসীর ন্যায় আমিও মৃত্যুর পূর্বে জেনে গেলাম এবং দেখে গেলাম আমার পরম শ্রদ্ধেয় নেত্রী শহীদ আইভি রহমানের হত্যা কান্ডের রায় আমি ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের বিশেষ আদালতে উপস্থিত থেকে অবলোকন করেছি। এই বুকভরা আশা নিয়ে রায় বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় রইলাম……..

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন