ভাঙনে বিলীন নদীতীরের স্থাপনা

0
73
ভাঙনে বিলীন নদীতীরের স্থাপনা

প্রয়োজন পর্যালোচনা ও স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামো
নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী ভাঙনের ঝুঁকিও উচ্চ। প্রায় প্রত্যেক বছরই স্কুল ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এবারের বন্যায় নদীতীরের ভবন ও স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে, বিশেষ করে পদ্মাপারের স্থাপনা। কয়েকদিন আগেও মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলের একটি দ্বিতল স্কুল ভবন পদ্মার গর্ভে প্রায় বিলীন হয়েছে। শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের ‘কাজীরসুরা ২৬ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর দ্বিতল ভবনটি সাইক্লোন শেল্টার হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। এটির বেশির ভাগ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পদ্মাপারের স্কুল ভবন এর আগেও নদীতে গেছে। স্কুল ভবনের পাশের কয়েকটি ভবন ও কাজীরসুরা বাজারের অর্ধশতাধিক দোকানপাট ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবারের বন্যায় ও নদীভাঙনে শিবচরের চরাঞ্চলের চারটি বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। এবারের বন্যায় এর আগে শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের তিনতলা ভবন, চর জানাজাত ইউনিয়নের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক স্থাপনা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের একটি সরকারি বিদ্যালয় কাম-সাইক্লোন শেল্টারের তিনতলা ভবন বিলীন হয়েছে। স্কুলগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। পদ্মা অববাহিকার স্কুল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা প্রতিবছরই নদীগর্ভে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হচ্ছে। এরইমধ্যে অনেক ভবন ও স্থাপনা বিলীন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীপারের ভবন স্থাপনা বিষয়ে তাই নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।
দিন কয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি একনেক সভায় তোলেন। নদীপারে স্থানান্তরযোগ্য স্থাপনা তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। বন্যায় পদ্মা নদীর ভাঙনে চাঁদপুরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি হাই স্কুল নদীতে বিলীন হওয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। ভবিষ্যতে আর কোনও অবকাঠামো যাতে নদীতে বিলীন না হয়, সে জন্য তিনি নদীপারের আশপাশে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা প্রভৃতি অবকাঠামো নির্মাণে সতর্ক থাকতে বলেন এবং বুঝেশুনে নির্মাণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীর চরিত্র বুঝে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হবে। সব স্থাপনা সব জায়গায় নির্মাণ করা যায় না। নদীপারে এমনভাবে অবকাঠামো করতে হবে, যাতে নদীভাঙনের সময় তাড়াতাড়ি তা সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নেওয়া যায়। অর্থাৎ স্থানান্তরযোগ্য স্থাপনা নির্মাণ করতে বলেছেন তিনি। স্থাপনার প্রকৃতি ও স্থান নিয়ে আসলেই আমাদের ভাবতে হবে। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ বিচক্ষণতাপ্রসূত। সরকারের দায়িত্বশীল লোকদের এই চিন্তার বাস্তব রূপ দিতে হবে। স্থান-চিত্র না বুঝে কোনও স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না, বিশেষ করে নদীতীরবর্তী এলাকায়। ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এমন জায়গায় স্থাপনা নিমার্ণের আগে নদীর গতিপথ পর্যালোচনা করতে হবে, এমন স্থান নির্বচন করতে হবে যাতে সেখানে কয়েক দশকের মধ্যে নদী ভাঙনের আশঙ্কা থাকবে না। এক্ষেত্রে শুধু বরাদ্দের টাকা ব্যয়ের চিন্তা করলেই হবে না, পাশাপাশি পূর্বপরিকল্পনা থাকতে হবে যেন সেটি ভাঙনের ঝুঁকিতে না পড়ে। দ্বিতীয়ত, ভাবতে হবে যদি ভাঙনের কবলে পড়েও যায় তাহলে সেই স্থাপনাগুলোকে যাতে সময়মতো সরিয়ে নেয়া যায় অর্থাৎ স্থানান্তরযোগ্য বিকল্প স্থাপনা নির্মাণের চিন্তা করতে হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন