মা-মেয়েকে নির্যাতন জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে

0
66
মা-মেয়েকে নির্যাতন জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে

দেশের বিভিন্ন প্রায়ই জায়গায় বর্বরতার শিকার হয় নারী, শিশু ও দুর্বলরা। একই ধারাবাহিকতায় এবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন এক মা ও তাঁর দুই মেয়ে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গরু চুরির অভিযোগ তুলে কিছু দুর্বৃত্ত ওই মা ও তাঁর দুই মেয়েকে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরায় এবং মারধর করে। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হলে সেখানেও তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে এবং মারধর করার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও। সব শেষে ওই মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঘন্য এই ঘটনা প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
চুরির অভিযোগ তুলে অতীতে অনেক নারী ও শিশুকে বর্বর নির্যাতন করা হয়েছে; এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন ঘটনায় অপরাধীদের দ্রæত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলে অপরাধের ব্যাপকতা কমে আসতে পারে। আমরা আশান্বিত কক্সবাজারের এই ঘটনায় প্রশাসন দ্রæত পৃথক দুটি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। গত রোববার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) শ্রাবন্তী রায়কে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন চকরিয়ার এসি ল্যান্ড মো. তানভীর হোসেন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জয় চক্রবর্তী। অন্যদিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক রাজীব কুমার দেব। এই নির্দেশ পাওয়ার পরই সরেজমিন তদন্ত শুরু করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা। একই বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তদন্ত যথাযথ না হলে হস্তক্ষেপ করা হবে। আমরা উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও সম্মান জানাই।
প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, নারী নির্যাতনের এই জঘন্য ঘটনার শুরু দুপুরে। আর নির্যাতিতাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বিকেল ৫টায়। পুলিশ প্রথমে তাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত সোমবার তাঁদের আদালতে তোলা হলে আদালত তিন নারীর জামিন মঞ্জুর করেন। মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের তিন সহযোগীকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। আমরা আশা করি এ ঘটনার সাথে জড়িতরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আসবে। ক্ষমতার দাপট কিংবা আইনের মারপ্যাঁচে বেরিয়ে যাতে আসতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিন নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই নারীকে কোমরে রশি বেঁধে প্রকাশ্যে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সময় এক চৌকিদার এক নারীকে বারবার স্পর্শ করছে। সেই চৌকিদারকেও আইনের আওতায় আনতে হবে? আমরা চাই, দ্রæততম সময়ে তদন্ত শেষ করা হোক। প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন