স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

0
198
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে দেশ আজ এক ভয়ানক বিপদে। মানুষ যখন নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে, তখন স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত এক শ্রেণির নীতিবিবর্জিত মানুষ নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত। শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক গাড়িচালক মালেক অস্ত্র, জাল টাকাসহ গ্রেপ্তারের পর স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য খাতের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২০ জনের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকাশিত খবরে ড্রাইভার মালেক সম্পর্কে জানা যায়, একীভ‚ত থাকা অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরে গঠিত স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নিয়োগ, বদলি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের টাকা তোলার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সিন্ডিকেট গড়েন গাড়িচালক আবদুল মালেক। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কয়েকজন নেতারও গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ড্রাইভারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সংগঠনের নেতা পরিচয়ে তিনি দোর্দÐ প্রতাপে তদবির বাণিজ্য চালিয়েছেন।
রাষ্ট্র জনগণকে যেসব সেবা দেয়, তার মধ্যে সবচেয়ে জরুরি একটি খাত হলো স্বাস্থ্যসেবা খাত। দেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। অথচ অতি জরুরি এ খাতে অনিয়মের যেন অন্ত নেই। দুর্নীতি একে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। শুধু সরকারি চিকিৎসাসেবাই নয়, গোটা স্বাস্থ্য খাতেই দেখা যায় অরাজকতার নানা চিত্র। গত বছর দুদকের অনুসন্ধানেও উঠে আসে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়, এমন ১১টি খাতও তখন চিহ্নিত করে দুদক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যালয়ে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দুর্নীতির শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। এর মাধ্যমে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ওষুধ, সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠন করে স্বাস্থ্য খাতে জনসাধারণের জন্য বরাদ্দ সরকারি বাজেটের একটি বড় অংশ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতের নানা দুর্নীতি সরকারকে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। এই অপরাধীদের প্রশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা দরকার বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। দুর্নীতিবাজদের খুঁজে বের করে সবার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন