হাসপাতালে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু নামসর্বস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো বন্ধ হোক

0
74
হাসপাতালে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু নামসর্বস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো বন্ধ হোক


মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো চিকিৎসা। আর সুচিকিৎসার জন্য মানুষ হাসপাতালে যায়। জটিল কোনো সমস্যায় মানুষ হাসপাতালে গিয়েও মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারে, মারা যেতে পারে। স¤প্রতি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নির্মম মৃত্যু হলো এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসার নামে হাসপাতালকর্মীদের নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, উদ্বেগজনকও। রাজধানীর আদাবরে ‘মাইন্ড এইড সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড ডি-অ্যাডিকশন হাসপাতাল’ নামের একটি হাসপাতাল রয়েছে; কিন্তু পত্রপত্রিকার বিবরণ থেকে জানা যায়, তাদের চিকিৎসার ধরন খুব অদ্ভুত। তাদের রয়েছে ১৫ মিনিটের ‘ভয়ংকর অবজারভেশন’ মেথড। অভিযোগ উঠেছে, অবজারভেশন কক্ষে চালানো হয় নির্মমতা। বরিশাল মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সুপার আনিসুল করিম শিপনকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালকর্মীদের নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সিসি ক্যামেরায় সে নির্যাতনের ফুটেজ রয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নির্যাতনে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ‘মাইন্ড এইড সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড ডি-অ্যাডিকশন হাসপাতাল’-এর মানসিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমোদন নেই। হাসপাতাল চালানোর মতো বিশেষজ্ঞ মানসিক চিকিৎসক, কাউন্সেলর, জনবল, কাগজপত্র ও সুবিধা কোনো কিছুই তাদের নেই। মাদকাসক্তি নিরাময়ের চিকিৎসার জন্য এক বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স নিলেও শর্ত পালন করেনি। স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের সুপারিশে পুলিশ হাসপাতালটি বন্ধ করেছে।
এমন হাসপাতাল সারা দেশেই বেশ কিছু আছে। এসব হাসপাতালের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও মানসিক চিকিৎসার নামে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই। যাদের আছে তারাও পরিচালনার শর্ত মানছে না। চিকিৎসার নামে আটকে রেখে নির্যাতন এবং ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করে রাখার চর্চা চলছে এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে। গত ১০ বছরে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্যাতন ও অপচিকিৎসায় কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এসব কী করে চলে সেটাই প্রশ্ন। হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র মানুষের জীবন রক্ষার জন্য, তাদের সুস্থ হওয়ার জন্য। সেখানে যদি জীবননাশের ঘটনা ঘটে, তাহলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ডিএনসির দায়িত্ব হবে এদের ব্যাপারে জোরালো তদন্ত চালানো এবং প্রয়োজনে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া। এ অরাজকতার অবসান হওয়া দরকার। জড়িতদের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি যেসব নামেমাত্র প্রতিষ্ঠান এভাবে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছে সেগুলো চিহ্নিত করে বন্ধ করতে হবে এবং এগুলোর পরিচালনাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে এবং যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন