শীত মৌসুমে করোনা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে

0
62
বর্ণবাদ ও সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি

সারাবিশ্বই এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি। মহামারি করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিও টালমাটাল। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রত্যেকটি খাত। মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাও ব্যাহত হয়েছে। এরইমধ্যে করোনাভাইরাসের আরও একটি প্রবাহ অর্থাৎ দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আসন্ন শীত মৌসুমে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে- জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এমন আশঙ্কার পর তা মোকাবিলায় গত সেপ্টেম্বরে এর রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো- স¤প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, রোডম্যাপ তৈরি করা হলেও তা কার্যত নথিবন্দি হয়ে আছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আমলে নেওয়া সমীচীন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রথমবারের মতো এবারও আগাম প্রস্তুতি নাজুক হলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভ সামলানো কঠিন হবে। এতে সংক্রমণের সঙ্গে পালস্না দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে। যদিও সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন। তবে পরিতাপের বিষয় হলো, তাদের এ দাবির সঙ্গে বাস্তবতার বিশাল ফারাক রয়েছে বলে খবরে উঠে এসেছে। জানা গেছে, সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলার কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের উদ্যোগের চিত্র পর্যালোচনা করে, সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাকের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমরা মনে করি, এখন সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যত দ্রম্নত সম্ভব সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করা। এমন তথ্য উঠে এসেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার রোডম্যাপে দেশের প্রতিটি জেলায় একাধিক পরীক্ষাগারে আরটিপিসিআর মেশিনে পরীক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ দেশের ৩৬ জেলায় এখনো একটি আরটিপিসিআর মেশিন বসেনি। এমনকি এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। ফলে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ লাগলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য অন্য জেলার আরটিপিসিআর পরীক্ষাগারের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে, যা সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, যে ৩৬ জেলায় আরটিপিসিআর মেশিন নেই, সে সব জেলায় আগে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা হবে। ফলে নমুনা পরীক্ষা নিয়ে সেখানে যে সংকট রয়েছে তা কেটে যাবে। তবে এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দীর্ঘদিন পরও সেখানে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু না হওয়ায় সময়মতো এ ‘সাপোর্ট’ পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়েও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। আমরা মনে করি, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে এমন আশঙ্কাকে সহজ করে দেখার সুযোগ নেই। সঙ্গত কারণেই দ্রম্নত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। উলেস্নখ্য, সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলার রোডম্যাপে ১৫টি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে চতুর্থ ও প ম অবস্থানে ঠান্ডাজনিত রোগ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা, ভ্যাকসিন, ওষুধ এবং করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ রয়েছে। অথচ শীত ঘনিয়ে এলেও বাজারে ঠান্ডাজনিত রোগের টিকা-ভ্যাকসিন কোনোটিরই পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই এমনটিও জানা যাচ্ছে। যদিও বিভিন্ন ফার্মেসিতে অ্যামেরিকা ও ফ্রান্সের তৈরি ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর যা দাম তাতে নিম্ন বা মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে জোগান দেওয়া অনেকটাই অসম্ভব। এ ছাড়া টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা আরও জোরদার, নমুনা পরীক্ষা ও গুরুতর অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা, স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোরতা প্রদর্শন এবং জনসমাগম এড়াতে পিকনিকসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান এড়ানোর বিষয়গুলো সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলার কর্মপরিকল্পনা থাকলেও এসব ক্ষেত্রে আগাম কোনো প্রস্তুতি নেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের, এমনটিও জানা যাচ্ছে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সব ধরনের সংকট নিরসন করতে হবে। একই সঙ্গে এটা মনে রাখা দরকার, জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর ক্ষেত্রে সফলতা দেখাতে ইতঃপূর্বে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা দেখা গেছে এমনটিও আলোচনায় এসেছে। সঙ্গত কারণেই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কাকে আমলে নিতে হবে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখবে এমনটি কাম্য।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন