ভৈরবের শিবপুরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং

0
75
ভৈরবের শিবপুরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং

আপডেট » ২৪ ≈ সেপ্টেম্বর ≈ ২০২০

এম.আর হৃদয়: ভৈরবে দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শিবপুর কান্দাপাড়া এলাকার কিশোর গ্যাং এর কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ। স¤প্রতি এ গ্রামে একটি কিশোর গ্যাং এর চরম ভয়াল আকার ধারণ করেছে। এই কিশোর গ্যাং এর মূল হোতা শিবপুর কান্দাপিড়া গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের এর বখাটে ছেলে রুদ্র ইসলাম (২২)। তার নেতৃত্বে ১৫/২০ জন ছেলের একটি কিশোর গ্যাং এলাকার দীর্ঘ দিন ধরে মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজী, ছিনতাই এবং দেহ ব্যবসাসহ নানা প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা প্রতি রাতে অভিনব কায়দায় শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ রোডে যাতায়াতকারী মানুষজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই করে থাকে। তাছাড়া কিশোর গ্যাং এর মূল হোতা রুদ্র ইসলামের সার্বিক তত্ত¡াবধানে দিনে ও রাতের বেলায় শিবপুর ইউনিয়ন ভবনের পেছনে জমজমাট জুয়া খেলা পরিচালিত হয়ে আসছে। এমন কি প্রতি রাতে স্থানীয় হাজী ফার্মের পেছনে অবস্থিত কলা বাগানে এই জুয়ার আসর বসে।
উলে­খ্য, গ্যাং লিডার রুদ্র ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে কিছু দিন পূর্বে স্থানীয় হাবিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী-কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছে থাকা পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। পরে ঐ ভ‚ক্তভোগী ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাছ থেকে জোর পূর্বক চার লাখ টাকা একটি চেক (ইসলামী ব্যাংক ভৈরব বাজার শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং- ৪২৫৬) এ স্বাক্ষর করে নিয়ে যায়। যার যথাযথ প্রমাণ রয়েছে। এছাড়াও গ্রামের হতদরিদ্র নিরীহ মানুষের জমি জোর পূর্বক দখল করে অন্যত্র বিক্রী করে দেয় এই কিশোর গ্যাং এর মূলহোতা রুদ্র ও তার সহযোগীরা। এছাড়াও জমি ক্রয়-বিক্রয় হলেও দুই পক্ষের কাছে থেকেই চাঁদা দাবী করে থাকে রুদ্র বাহিনী। রুদ্র তার আধিপত্য বিস্তার করতে পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া কসাই হাটির এলাকা থেকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে এসে দাপটের সহিত এসব অপকর্ম করে আসছে। অন্যদিকে গ্যাং এর মূল হোতা রুদ্র ইসামের স্ত্রী শোভা বেগম তার নিজ ডুপ্লেক্স বাড়িতে পার্লার ব্যবসার অন্তরালে টাকার বিনিময়ে যুবতী মেয়েদেরকে নিয়মিত ভৈরবের প্রভাবশালী লোকজনের কাছে পাঠিয়ে দেহ ব্যবসা মাধ্যমে অর্থ আদায় করে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শোভা বেগম দেহ ব্যবসা করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে যুবতী মেয়েদেরকে দিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও শোভা বেগম আদালতে বিচারাধীন ভৈরব হাজী আসমত কলেজের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারভ‚ক্ত আসামী। এই সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং এর মূল হোতা রুদ্রের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে গ্রামবাসীর পক্ষে গণ স্বাক্ষরিত স্বারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এদিকে স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভৈরব থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ভৈরব থানার এসআই মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ ঘোষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই রফিকুল ইসলামকে। তবে অভিযোগ রয়েছে,
অভিযুক্ত রুদ্র ও তার স্ত্রী শোভা বেগমের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চুক্তি করেন তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম।গত মঙ্গলবার রাতে ভৈরবের শম্ভপুর রেলগেইট সংলগ্ন ভোলার বাজার এলাকার জনকৈ শাহজাহান মিয়ার ফার্মেসিতে বসে এই রফাদফার চুক্তি করা হয় বলে নির্ভর সূত্রে জানা গেছে। এবিষয়ে এসআই রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অভিযুক্তদের সাথে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করার কথা অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) এর যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এলাকাবাসীর লিখিত স্বারকলিপির বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন