আলুর খুচরা দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণ

0
54
আলুর খুচরা দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণ

আপডেট »২১≈ অক্টোবর ≈ ২০২০

গৃহকোণ প্রতিবেদক: খুচরা পর্যায়ে আলুর প্রতিকেজি সর্বোচ্চ মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। বুধবার থেকে এই মূল্য কার্যকর হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূল পর্যায়ের আলু চাষি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা, হিমাগার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করে কৃষি স¤প্রসারণ ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। বৈঠকে প্রথমে আলুর কেজিপ্রতি মূল্য খুচরা পর্যায়ে ৩৩ টাকা এবং পাইকারি পর্যায়ে ২৬ টাকা প্রস্তাব করেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ। তবে বাজার কমিটি এতে ভেটো দিলে প্রস্তাবটি নাকচ হয়। পরবর্তীতে খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ৩০ টাকা এবং হিমাগারে ২৭ টাকা দাম প্রস্তাবিত হলে সেটি গৃহীত হয়। এর আগে আলুর দাম কেজিতে খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং হিমাগারে ২৩ টাকা ছিল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, এই দাম আগামীকাল (আজ) থেকে কার্যকর হবে। তবে অনেকেই যেহেতু আগে থেকে বেশি মূল্যে আলু কিনে রেখেছেন তাই কোথাও কোথাও মূল্যে তারতম্য হতে পারে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বৈঠকে ধানের মতো কৃষকদের কাছ থেকে সরকারকে আলু কিনে নেওয়ার আহবান জানান চাষিরা। সভায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আলী আকবর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুম আরেফিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আলুর দাম নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী আবদুল রাজ্জাক বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল কৃষক যাতে এবছর ভালো দাম পায়। কিন্তু দাম বাড়াতে গিয়ে এমন পরিস্থিতি হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। এবছর আলুর ব্যবহার অনেক হয়েছে। তিনি বলেন, বিকেলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে আলুর নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে। আমার মনে হয় আলুর দামটা ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে করা হতে পারে। এ ছাড়া বিদেশ থেকেও আলু আমদানি করার চেষ্টা চলছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বাজার নির্ভর করে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। এজন্য আমরা পুনঃবিবেচনা করছি। খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বাড়াতে হবে। এটা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা হতে পারে। তবে বিকেলে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ দাম নির্ধারণ করা হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের আলু চাষের এলাকা কমেছে, উৎপাদনও কিছু কম হয়েছে। এরমধ্যে কোভিড মহামারি এলো। আমাদের এবার লক্ষ্য ছিল আলুর দাম বাড়ানোর। দাম বাড়াতে গিয়ে এমন একটা বিপর্যয়কর অবস্থা হবে ভাবিনি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, রিকশাওয়ালা-ভ্যানওয়ালা, শ্রমিক তাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। এত দাম চিন্তাই করা যায় না। ৫০ টাকা কিংবা এরও বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার ত্রাণের মধ্যে আলু দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদেরও আলু দিতে বলেছিলাম। এজন্য আলুর ব্যবহারটা বেশি হয়েছে। এ ছাড়া গত ৫ মাস ধরে টানা বৃষ্টিতে শাক-সবজি অনেক পচে গেছে, মানুষ আলুর উপর নির্ভরশীল হয়েছে। তা না হলে কোনোক্রমেই আলুর দাম এত বেশি হওয়ার কথা নয়। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আশা করি নতুন আলু এলে আলুর দাম কমে যাবে। এবার আলু অনেক হবে। আলুতে আমাদের ঘাটতি থাকার কোনো কারণ নেই। আমাদের পর্যাপ্ত আলু হয়। আশা করি ভবিষ্যতে এই সমস্যা হবে না। আমরা এখনও চিন্তা করছি আলু কীভাবে রপ্তানি করা যায়। এই বিপর্যয়ের জন্য আমরা খুবই দুঃখিত। স্বল্প আয়ের মানুষ কষ্ট করছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন