ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৈশপ্রহরীকে খুন করে ব্যাংক লুটের চেষ্টার জড়িত ৪ জন গ্রেফতার

0
79
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৈশপ্রহরীকে খুন করে ব্যাংক লুটের চেষ্টার জড়িত ৪ জন গ্রেফতার

আপডেট »০১ ≈ অক্টোবর ≈ ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: নৈশপ্রহরীকে খুন করে ব্যাংক লুটের চেষ্টার ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলেন- আশুগঞ্জ উপজেলার বগৈর এলাকার রসু মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন (২৪), আড়াইসিধা গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে মো. জামিল (২৮) ও রহিম বাদশার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৭) ও চরচারতলা গ্রামের মৃত মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মাসুম কবির (৩৮)। এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর সংলগ্ন বিডিবিএল শাখা ভবনের ভেতর থেকে নৈশপ্রহরী রাজেশ বিশ্বাসের (২৩) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার চান্দপুর গ্রামের ক্ষিরোদ বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, লোহার রেন্স ও শবাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে রাজেশকে হত্যা করা হয়। ব্যাংক লুটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাÐ। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা জামাল হোসেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতাররা ‘বড় কাজ’ করার জন্য ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা করছিল। সেজন্য তারা বিডিবিএল, সোনালী ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের আশুগঞ্জ শাখায় খোঁজখবর নিতে থাকে। কিন্তু সোনালী ব্যাংকটি বাজারে হওয়ায় এবং সবসময় লোকজনের আনাগোনা থাকায় সেখানে লুটের পরিকল্পনা বাদ দেয়া হয়। প্রিমিয়ার ব্যাংকের চারদিকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থাকায় সেখানেও লুটের পরিকল্পনা ভেস্তে যায় তাদের। তিনি আরও বলেন, বিডিবিএল ব্যাংকের একটি জানালা অরক্ষিত এবং পেছন দিকে চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় তারা সেখানে লুটের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী জামাল ও জামিল জানালার গ্রিল কাটে। মোস্তাক ও শাহাদাৎ নামে দুইজন রাস্তায় পাহারা দেয় এবং লোকজনের গতিবিধি লক্ষ্য করে। জামাল ও জামিল ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে নৈশপ্রহরী রাজেশকে লোহার রেন্স ও শাবল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে। এরপর তারা ব্যবস্থাপকের কক্ষে গিয়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং একটি ল্যাপটপ ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে টাকার ভল্ট ভেঙে রক্ষিত টাকা লুণ্ঠনের চেষ্টা করে। কিন্তু ভল্ট ভাঙতে না পারায় তারা টাকা লুট করতে পারেনি। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, ক্রাইম সিন পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ল্যাপটপ ও টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাংকের ভল্টের খোয়া যাওয়া দুটি চাবি উদ্ধার এবং অভিযুক্ত বাকি দুইজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দফতর) আবু সাঈদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন, জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আলাউদ্দিন চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিসুর রহমান ও ডিআইও-১ ইমতিয়াজ আহাম্মদ এবং আশুগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি জাবেদ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন