মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদ্যুৎমিস্ত্রি গ্রেফতার

0
58
মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদ্যুৎমিস্ত্রি গ্রেফতার

আপডেট » ২১ ≈ সেপ্টেম্বর ≈ ২০২০

নারায়াণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগকারী মিস্ত্রি মোবারক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল রোববার দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার বিকালে কোর্ট এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজই ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’ গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মসজিদে একটি অবৈধ বৈদ্যুতিক লাইন ছিল। যেটি থেকে গত ৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের সময় স্পার্ক করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই অবৈধ বৈদ্যুতিক লাইনে সংযোগের কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ এদিকে, মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় সিআইডি গতকাল রোববার থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের কোনোপ্রকার অবহেলা ছিল কিনা তা উদঘাটন করার চেষ্টা করছে তারা। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন জানান, মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় ফতুল্লা জোনের বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া তিতাসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুই দিন রিমান্ডের এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অবহেলার বিষয়টি উদঘাটন করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। অতিরিক্ত ডিআইজি আরও বলেন, ‘মসজিদে বিস্ফোরণ একটি জাতীয় ইস্যু হয়ে গেছে। গুরুত্বের সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত চলছে। এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণকারী এবং মসজিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে। যাদের অবহেলায় ঘটনা ঘটেছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফরজ নামাজের মোনাজাত শেষে অনেকে সুন্নাত ও অন্য নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় মসজিদের ভেতরে প্রায় ৪০ জন মুসল্লি ছিলেন। বিস্ফোরণে তাদের প্রায় সবাই দগ্ধ হন। এদের ৩৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। শুরু থেকেই সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এ পর্যন্ত মারা গেলেন ৩৩ জন, একজন হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন, বাকি তিন জন ইনস্টিটিউটের আইসিইউ-য়ে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের কেউ শঙ্কামুক্ত না বলে জানান ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক ডা. হোসাইন ইমাম।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন