ইতিহাসের এই দিনে (শুক্রবার) ১৩ নভেম্বর ২০২০

0
59
ইতিহাসের এই দিনে (শুক্রবার) ১৩ নভেম্বর ২০২০

(মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম)
বাংলার মুসলমান সমাজের অর্ধশতাব্দীর জড়তা দূর করে আধুনিক রীতিতে সাহিত্য চর্চার সূত্রপাতকারী মীর মশাররফ হোসেনের আজ জন্মদিন। ১৮৪৭ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায় এক ভ‚সম্পদশালী ধনাঢ্য পরিবারে বাংলার কালজয়ী এই ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিকের জন্ম। মহররমের বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী অবলম্বনে বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের একটি স্থায়ী সম্পদ। ছাত্র জীবনেই তার সাহিত্য চর্চা শুরু। লেখাপড়ায় বেশিদূর যাননি। তার আত্মজীবনীতে স্বগৃহে মুন্সির কাছে আরবি, ফার্সি এবং পাঠশালায় পÐিতের কাছে পড়ালেখার কথা লেখা আছে। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ফরিদপুর নবাব এস্টেটের চাকরিতে। সংসার জীবনে ছিলেন অসুখী। শেষ জীবনে চাকরি ছেড়ে ভাগ্যান্বেষণে বগুড়া, কলকাতা যাতায়াত করেছেন। কলকাতার সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালীর গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় মফস্বল সাংবাদিকের কাজ করেছেন। পরে আজিজন নেহার ও হিতকরী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। বঙ্কিমযুগে অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পীর মর্যাদা দেয়া হয় তাকে । উপন্যাস, নাটক, জীবনী, আত্মজীবনী, ইতিহাস, কাব্য, ধর্মতত্ত¡ ইত্যাদি মিলিয়ে তার রচিত গ্রন্থসংখ্যা ৩৫টি। এগুলোর মধ্যে বিষাদ সিন্ধু, রতœাবতী, বসন্তকুমারী, জমীদার দর্পণ, সঙ্গীত লহরী, উদাসীন পথিকের মনের কথা, গাজী মিয়ার বস্তানী, বিবি খোদেজার বিবাহ, হযরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ১৯১২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯১৫ সালের এ দিনে ইরানের তৃতীয় জাতীয় সংসদ দেশটির সর্বশেষ কাজার স¤্রাট আহমদ শাহের নির্দেশে ভেঙ্গে দেয়া হয়। রাশিয়া ও বৃটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর আহমদ শাহ এই অন্যায় পদক্ষেপ নেন। সে সময় রাশিয়া ও বৃটেন ইরানকে জার্মানীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত করতে চেয়েছিল। এই লক্ষ্যে রাশিয়া ইরানের উত্তরাঞ্চলে ও বৃটেন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে সেনা পাঠায়। রুশ সেনারা তেহরানের দিকে অগ্রসর হলে সংসদের একদল সদস্য ইরানের মাটিতে বিদেশী সেনাদের প্রবেশের প্রতিবাদে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করেন। এ সময় ইরানের ক্ষমতাসীন নেতৃবৃন্দের অযোগ্যতার সুযোগে রাশিয়া ও বৃটেন ইরানে তাদের কাজ অনেকাংশে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়। অবশেষে ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় কমিউনিস্ট বিপ্লব সংঘটিত হলে রুশ সেনারা ইরান ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু এরপর বৃটেনের সেনারা রুশ সেনাদের স্থান দখল করে নেয় এবং ইরানে ক্রীড়নক সরকার প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু অন্যায় ও স্বৈরাচারি পদক্ষেপ নেয়। আর এভাবে বৃটেন ইরানে ঔপনিবেশিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছিল।

৩৮৭ হিজরীর এ দিনে বিখ্যাত বক্তা ও হাদীস সংগ্রহকারী আলেম ইবনে সামউন বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। আল এমালি তার একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম। দামেস্কের জাহেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও এই আলেমের লেখা বই সংরক্ষিত রয়েছে।

১৮৭৩ সালেল এ দিনে ইরানের বিখ্যাত আলেম ও শিক্ষক আয়াতুল্লাহ জুন্নুরী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাব্রিজে জন্ম গ্রহণ করেন। তাব্রিজে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর তিনি ইরাকে নাজাফে পড়াশুনা করতে যান এবং ইজতিহাদ বা উচ্চতর গবেষণার যোগ্যতা অর্জনের পর ইরানে ফিরে আসেন। এরপর তিনি শিক্ষাদান ও লেখালেখিতে মশগুল হন। অনেক ছাত্র আয়াতুল্লাহ জুন্নুরী’র কাছে পড়াশুনা করে মুজতাহিদ হবার যোগ্যতা অর্জন করেন। “ক্বাদা ও শাহাদত” এবং “উরওয়াতুল উসকার ব্যাখ্যা” আয়াতুল্লাহ জুন্নুরী’র লেখা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বই।

২০০২ সালের ১৩ ই নভেম্বর ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের সরকার জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শক দলকে ইরাকে ফিরে আসার অনুমতি দেয়। ইরাকে কোনো গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র নেই বলে অস্ত্র পরিদর্শকরা রিপোর্ট দেয়া সত্তে¡ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দামের গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংসের অজুহাত দেখিয়ে ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ইরাকে হামলা চালিয়ে দেশটি দখল করে নেয় এবং এখনও ইরাকে প্রায় দেড় লক্ষ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। বৃটেনসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি মিত্র দেশের সেনাও ইরাকে মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, মার্কিন সরকারই পরে স্বীকার করেছে যে ইরাকে গণ বিধ্বংসী অস্ত্র থাকার ব্যাপারে সিআইএ’র রিপোর্টটি ছিল ভুল এবং ইরাকে এখনও কোনো গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পাওয়া যায় নি। প্রেসিডেন্ট বুশ ছাড়াও বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী টনি বেøয়ারও ইরাকের পরমাণবিক ক্ষমতা সম্পর্কিত তাদের দাবীকে ভুল বলে স্বীকার করেন। বিশ্বজনমত ও জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন হামলা চালানোর পেছনে দেশটির তেল-সম্পদ লুন্ঠণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলী আধিপত্য জোরদারের উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এবারে বিশ্বের ইতিহাসে ১৩ ই নভেম্বরে অনুষ্ঠিত আরো কিছু ঘটনা সংক্ষেপে জানিয়ে দিচ্ছি।

৭১১ খৃষ্টাব্দের ১৩ ই নভেম্বরে ইমাম আবু হানিফা ইন্তেকাল করেন।
১৯০৭ সালের ১৩ ই নভেম্বরে পল কমু’র উদ্ভাবিত হেলিকপ্টার প্রথমবারের মত আকাশে ওড়ে।
১৯৭৪ সালের ১৩ ই নভেম্বরে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা বা পি এল ও’র নেতা ইয়াসির আরাফাত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
১৯৭৭ সালের ১৩ ই নভেম্বর ঢাকায় বিজ্ঞান যাদুঘর উদ্বোধন করা হয়।
১৯৮৫ সালের ১৩ ই নভেম্বর কলম্বিয়ায় এক ভ‚মিকম্পে ২৩ হাজারেরও বেশী মানুষ প্রাণ হারায়।
১৯৯৪ সালের ১৩ ই নভেম্বর সুইডেন এক গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় জোটে যোগ দেয়।

ফরাসিদের ভিয়েনা দখল (১৮০৫)
মেক্সিকোর কাছ থেকে আলাদা হয়ে টেক্সাসের স্বাধীনতা ঘোষণা (১৮৩৫)
জেনেভায় লীগ অব নেশন্সের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক (১৯২০)
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জাপানের মধ্যে প্যাসিফিক চুক্তি স্বাক্ষর (১৯২১)
সুকর্ণ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত (১৯৪৫)
ভাষা আন্দোলনের বিপ্লবী মুখপত্র ‘সাপ্তাহিক সৈনিক প্রকাশ শুরু (১৯৪৮)
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট সি দাইদাগো কালাবাউন্দ নিহত (১৯৫০)
কলম্বিয়ার আরমেরা শহরে ৪শ বছর যাবত সুপ্ত নেভাডো ডেল রুইজ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে শহরটির ধ্বংস সাধন; ২৫ হাজার লোক নিহত (১৯৮৫)

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন