ইতিহাসে প্রতিদিন আজ (মঙ্গলবার) ১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২১

0
38
ইতিহাসে প্রতিদিন আজ (মঙ্গলবার) ১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২১

বঙ্গবীর ওসমানীর মৃত্যু
মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৪ সালের এই দিনে ক্যান্সার রোগে তিনি লন্ডনে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। তী² মেধা ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ওসমানী ছিলেন চিরকুমার। একজন সুদক্ষ সেনানায়ক হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন তিনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাঙালি সৈনিকদের জন্য পদ সংরক্ষণ, পাকিস্তান ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মার্চ সঙ্গীতরূপে কাজী নজরুল ইসলামের চল চল চল উর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল” গানটিকে সরকারি স্বীকৃতি আদায়ের নায়ক ওসমানী। বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনে অবদানের জন্য তাকে ফাদার অব দি বেঙ্গল রেজিমেন্ট হিসেবে সম্মান করা হয়। বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানী ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৪ সালে প্রবেশিকা পাস করেন। ১৯৩৮ সালে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন আলীগড় মুসলিম বিশ^বিদ্যালয় থেকে। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মফিজুর রহমান। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। পরে আসামের জেলা প্রশাসক হন। ওসমানীর মায়ের নাম বেগম জোবেদা খাতুন। দু’ভাই ও এক বোনের মধ্যে ওসমানী সবার ছোট। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে ওসমানী যোগ দেন ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে। ১৯৪১ সালে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালে মেজর হিসেবে পদোন্নতি পান। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে বার্মার রণাঙ্গনে সেনা অধিনায়ক ছিলেন তিনি। পাকিস্তানে আসার পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন। ১৯৫১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস-এর অতিরিক্ত কমান্ডেন্ট নিযুক্ত হন। ১৯৫৬ সালে কর্নেল পদে উন্নীত হন। অবসর । গ্রহণ করেন ১৯৬৭ সালে। ১৯৭০ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তিনি মুক্তিব হনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বঙ্গবীর উপাধি দেয়া হয়। ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ডাক, তার, টেলিফোন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করার বিরোধিতা করে ওসমানী সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। এ পদ থেকে দু’মাস পর পদত্যাগ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি গঠন করেন জনতা পার্টি। ১৯৭৮-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোটের প্রার্থী এবং ৮১ তে জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে উভয় নির্বাচনেই পরাজিত হন।

১৯৯২ সালের এ দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিমান হামলায় লেবাননের হিজবুল্লার মহা সচিব সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি শহীদ হন। ইসরাইলের এই ন্যক্কারজনক হামলায় আব্বাস মুসাভির স্ত্রী, সন্তান এবং তার তিন সফর সঙ্গীও শহীদ হন। তিনি লেবাননের খ্যাতনামা আলেম শেইখ রাগেব হার্বের শাহাদত বার্ষিকীতে যোগ দিয়ে ফেরার পথে এই বিমান হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লংঘন করে এ হামলা চালানোর ফলে বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা ইসরাইলের উপর ক্রব্ধ হয়ে উঠে। এ ছাড়া বিশ্বের যে সব বলদর্পী দেশ অহরহ মানবাধিকারের কথা বলে তারা ইসরাইলের এ হামলার নিন্দা জানায় নি। ইসরাইল মনে করেছিলো এ জাতীয় বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের মাধ্যেমে হিজবুল্লাহর তৎপরতা হ্রাস করা যাবে কিন্তু তাদের সে লক্ষ্য মোটেও অর্জিত হয় নি। মুসাভির শাদাতদের পর স্যাইয়েদ নাসরুল্লাহ হিজবুল্লাহ মহা সচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে ২০০০ সালে হিজবুল্লাহ ইসরাইলকে দক্ষিণ লেবানন থেকে বিতাড়িত করে।

১৯৮৪ সালের এ দিনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানী ইন্তেকাল করেন। তার পুরো নাম ছিলো মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। ১৯১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে ওসমানীর জন্ম হয়েছিলো। ১৯৩৯ সালে তিনি রয়াল আর্মড ফোর্সে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কমিশনড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৭ সালের ৭ই অক্টোবর ওসমানী পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৫৬ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্নেল পদমর্যাদা লাভ করেন এবং সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারের জেনারেল স্টাফ এন্ড মিলিটারি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টরের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে অবসরগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৬শে ডিসেম্বর তাঁকে বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সের জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৭২ সালে দায়িত্ব থেকে অবসর নেন এবং মন্ত্রীসভায় যোগ দেন অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। ১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ডাক, তার, টেলিযোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। ১৯৭৪ সালের মে মাসে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে তিনি সংসদ সদস্যপদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। সে বছর ২৯শে আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পান, তবে ৩রা নভেম্বর জেলহত্যার ঘটনার পর তিনি সে পদ থেকেও পদত্যাগ করেন।

১৯৫৯ সালের এ দিনে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিডেল কাস্ট্রো কিউবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে ফিডেল কাস্ট্রো পরিচালিত গেরিলা যুদ্ধের মুখে কিউবার ডানপন্থী স্বৈরশাসক বাতিস্তা কিউবা ত্যাগে বাধ্য হন। পয়লা জানুয়ারি বাতিস্তা দেশত্যাগের পর কাস্ট্রো কিউবার সেনা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হন। ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ পথে বহাল ছিলেন। এরপর তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ২০০৮ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে স্বাস্থ্যগত কারণে এ পদ থেকে অব্যাহতি নেন। পশ্চিম গোলার্ধে প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী এই দেশ ওয়াশিংটনের সৃষ্ট নানা রাজনৈতিক সংকট এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে টিকে আছে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবার পতন ঘটবে বলে পাশ্চাত্যের অনেক পন্ডিত ভবিষ্যতবাণী করলেও তাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

১৯৪৬ সালের এ দিনে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে। জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি এই ভেটো প্রয়োগ করেছিলেন। জাতিসংঘের ৫ স্থায়ী সদস্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স এবং বৃটেনের কেবল ভেটো প্রদানের ক্ষমতা আছে। বিশ্বের দেশগুলো এই ভেটো ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে।

১৯৩০ সালের এ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা কোম্পনী ডু পন্টের গবেষণাগারে প্রথম নাইলন তৈরি করা হয়। আর এই নাইলন প্রথম তৈরি করেন, ডু পন্টের রসায়নবিদ উইলিয়াম হিউম ক্যারোথার্স। নাইলন পানি বা সাধারণ কোনো রাসায়নিক মিশ্রনে দ্রবীভ‚ত হয় না এবং নাইলন গলানোর জন্য ২৬৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার প্রয়োজন পড়ে।

অবিভক্ত বাংলায় পুলিশী ব্যবস্থার সূত্রপাত (১৭০৪)
আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের জন্ম (১৭৩২)
ফরাসিদের স্পেন দখল (১৮০৮)
লাইফ বোটের উদ্ভাবক লিওলেন লুকিনের মৃত্যু (১৮৩৪)
স্পেনকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা (১৮৭৩)
পপুলার ফ্রন্টের বিজয়। স্পেনে বামপন্থী রিপাবলিকান সরকার প্রতিষ্ঠা (১৯৩৬)
ফিদেল ক্যাস্ট্রো কিউবার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত (১৯৫৯)
কুষ্টিয়ায় জনসভার মঞ্চে প্রকাশ্য ব্রাশফায়ারে জাসদ নেতা কাজী আরেফসহ ৫ জন নিহত (১৯৯৯)

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন