ইতিহাসে প্রতিদিন

0
50
ইতিহাসে প্রতিদিন


৩০ অক্টোবর’২০২০

(ফজলে লোহানীর মৃত্যু)
বিখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, ব্যাপক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান যদি কিছু মনে না করেন-এর নির্মাতা-উপস্থাপক ফজলে লোহানীর আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৫স সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাংবাদিকতা, রাজনীতি, শিল্প, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ছিলো ফজলে লোহানীর পদচারণা। ৬ বছর বয়সে পিতৃহীন হন তিনি। লেখাপড়া করেছেন বিজ্ঞান বিভাগে । কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএসসি পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে এমএসসিতে ভর্তি হন। ১৯৫১ তে দৈনিক সংবাদের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী সম্পাদক ছিলেন তিনি। দৈনিক সংবাদ ৫২’র ভাষা আন্দোলনের অনুক‚লে ভ‚মিকা না রাখায় ৫২’র ২৪ ফেব্রæয়ারি তিনি সংবাদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর দৈনিক আজাদ। পাকিস্তান অবজারভার এবং বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে সাংবাদিকতা করেছেন। লন্ডনে অবস্থানকালে বিয়ে করেছেন এলিজাবেথ নামের এক ব্রিটিশ মহিলাকে । ষাটের দশকে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে পরিচালিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির রাজনীতিতে যোগ দেন। ভাসানীর সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেছেন। ৭৩’র নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া আসনে ন্যাপ ভাসানী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে পরাজিত হন। বাংলাদেশে টিভি উপস্থাপনা ও অনুষ্ঠান পরিবেশনায় তিনি একটি নতুন ধারা এনেছিলেন। শিক্ষা, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে জনপ্রিয়তার শীষ্ঠে ছিলেন তিনি। ফজলে লোহানীর জন্ম ১৯২৮ সালের ১২ মার্চ সিরাজগঞ্জে। তার পিতা আবু লোহানী ছিলেন কলকাতার ইংরেজি সাপ্তাহিক দি মুসলমান’-এর সহকারী সম্পাদক। অভিনেতা ফতেহ লোহানী তার ভাই।

১৯১০ সালের ৩০শে অক্টোবর আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুনান্ট পরলোকগমন করেন। ডুনান্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১৮২৮ খ্রীস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। যুদ্ধাহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক রেডক্রস প্রতিষ্ঠা করেন। এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯০১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯১০ সালের আজকের দিনে ৮২ বছর বয়সে হেনরি ডুনান্টের মৃত্যু হয়।

ফার্সি ১৩০৪ সালের ৯ই অবন ইরানের জাতীয় সংসদ কাজার রাজবংশের সর্বশেষ বাদশাহ- আহমাদ শাহকে ক্ষমতাচ্যূত করে। এর ফলে ইরানের ওপর কাজার বংশের ১৩৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। কাজার রাজবংশের পতনের পর বৃটিশদের ষড়যন্ত্র ও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইরানে রেজা খানের নেতৃত্বে একটি সরকার গঠিত হয়। ঐ ঘটনার প্রায় সাড়ে চার বছর আগে রেজা খান বৃটিশদের মাধ্যমে পরিচালিত এক অভ্যূত্থানে সেনা প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ধীরে ধীরে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি কাজার রাজবংশের পতনের প্রায় এক মাস পর নিজেকে ইরানের শাহ বলে ঘোষণা করেন, ফলে ইরানে পাহলাভি শাসনামলের সূচনা হয়। পাহলাভি শাসক রেজা খান এবং তার ছেলে মোহাম্মাদ রেজা শাহ’র শাসনামলে বৃটিশ ও মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি ইরানী জনগণের সম্পদ লুটপাটের ব্যাপক সুযোগ পায়। তবে ১৯৭৯ সালে মরহুম ইমাম খোমেনী (রহঃ)এর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের মাধ্যমে ইরানে পাহলাভি শাসনামলের পাশাপাশি ইরানের ওপর আড়াই হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে।

১৯৯১ সালের ৩০শে অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন পিএলও, মিশর, জর্দান, সিরিয়া ও লেবাননের সাথে কুদস দখলদার ইহুদীবাদী ইসরাইলের কথিত শান্তি আলোচনা স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে শুরু হয়। আরবদের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কথিত ঐ শান্তি আলোচনা শুরু হয়। মাদ্রিদ বৈঠকসহ এর পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলিতে ইহুদীবাদী ইসরাইল ‘শান্তির পরিবর্তে শান্তি’ দাবি করলেও আরব দেশগুলো ‘ভ‚মির পরিবর্তে শান্তি’ মেনে নিতে রাজী হয়। আরব দেশগুলো দাবি করে, ইহুদীবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনী ভ‚খÐসহ যে সব আরব ভ‚মি জবরদখল করে রেখেছে, সেগুলো ফেরত দিলেই কেবল তেলআবিবের সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নানামুখী ষড়যন্ত্রের ফলে শেষ পর্যন্ত সকল আরব দেশ তাদের দাবিতে অটল থাকতে পারে নি। ফিলিস্তিনী ভ‚মি মুক্ত করার ব্যাপারে আরব দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয় এবং কোন দাবি আদায় ছাড়াই ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বাধীন পিএলও ও জর্দান ইসরাইলের সাথে আলাদা আলাদাভাবে কথিত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর সত্তে¡ও ইহুদীবাদী সরকার ফিলিস্তিনী জনগণের ওপর গণহত্যা ও দমন অভিযান চালিয়ে যায়। ঐ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর গত প্রায় দুই দশক ধরে ফিলিস্তিনী জনগণের ওপর ব্যাপক গণহত্যা চালিয়ে তেলআবিব প্রমাণ করেছে, এ ধরনের একটি দখলদার সরকারের সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

৬০৬ হিজরির আজকের দিনে ইরানের বিশিষ্ট আলেম, ফকীহ ও দার্শনিক ফখরুদ্দিন রাজি ৬২ বছর বয়সে হেরাত শহরে ইন্তেকাল করেন। তিনি ৫৪৪ হিজরিতে ইরানের বর্তমান রাজধানী তেহরানের নিকটবর্তী একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কোরআনের তাফসির ও ফেকাহ শাস্ত্র, দর্শন এবং গণিতবিদ্যায় ফখরুদ্দিন রাজি ব্যাপক পান্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। ফখরুদ্দিন রাজির ক্লাসে সে সময়কার জ্ঞানপিপাসু মানুষের ভিড় লেগেই থাকতো। তিনি দর্শন শাস্ত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সে যুগে প্রচলিত ধারণার ব্যাপারে ব্যাপক সংশয় প্রকাশ করেন এবং তখনকার দিনের বিখ্যাত দার্শনিক খাজা নাসিরউদ্দিন তুসি, মোল্লা সাদরা ও মীরদামাদ এসব ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন। অধ্যাপনা ও খতীবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এই মুসলিম দার্শনিক বেশ কিছু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা আজও জ্ঞানপিপাসুরে তৃষ্ণা মেটায়।

অস্ট্রিয়ার স¤্রাট এবং প্রশিয়া ও ডেনমার্কের রাজান্বয়ের মধ্যে ঐতিহাসিক ভিয়েনা চুক্তি স্বাক্ষর (১৮৬৪)
তুর্কি সুলতান তৃতীয় ওসমানের ইন্তেকাল (১৭৫৭)
হাঙ্গেরিতে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সূচনা (১৯১৮)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের আত্মসমর্পণ (১৯১৮)
অস্ট্রিয়া বিপ্লব সংগঠিত (১৯১৮)
রেডক্রসের প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুনান্টের মৃত্যু (১৯২০)
মুসোলিনীর ইতালির শাসনভার গ্রহণ (১৯২২)
৫২’র ভাষা আন্দোলনের শহীদ রফিকের জন্ম (১৯২৬)
ভারতের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ (১৯৪৫)
কেনিয়ায় হাতি শিকার ও হাতির দাতের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা (১৯৭৩)
পর্তুগালে ৮ বছরের সামরিক শাসনের অবসান (১৯৮২)
পূর্ব তুরস্ক ভ‚মিকম্পে ১২শ লোকের মৃত্যু (১৯৮৩)
মার্কিন ও সোভিয়েত প্রেসিডেন্টদ্বয়ের উপস্থিতিতে মাদ্রিদে ইসরাইলি, আরব ও ফিলিস্তিনিদের শান্তি সম্মেলন শুরু (১৯৯১)

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন