সেরে ওঠার পরও দীর্ঘদিন থেকে যাচ্ছে করোনার উপসর্গ

0
61
সেরে ওঠার পরও দীর্ঘদিন থেকে যাচ্ছে করোনার উপসর্গ

আপডেট »২১≈ অক্টোবর ≈ ২০২০
গৃহকোণ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সাধারণ উপসর্গ যেমন-জ¦র, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাগুলো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা যায়। তবে অনেক রোগীর দেহে এর চেয়েও জটিল কিছু সমস্যাও ধরা পড়ে। এসব বিষয় মোটামুটি সবারই জানা। কিন্তু স¤প্রতি নতুন এক খবরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শরীরের বেশিরভাগ অঙ্গপ্রত্যঙ্গেই ভয়াবহ প্রভাব ফেলে কোভিড-১৯ ভাইরাস। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত করোনার লক্ষণ ধরা পড়েছে অনেক রোগীর। স¤প্রতি ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর বহু রোগীর শরীরে থেকে যাচ্ছে করোনার উপসর্গ। একটি সমীক্ষা চালিয়ে অক্সফোর্ডের গবেষকরা দেখেছেন যে, করোনার উপসর্গগুলোর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, গায়ে ব্যথা, উৎকণ্ঠা এবং মানসিক অবসাদের মতো লক্ষণগুলো সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন থেকে যাচ্ছে। কারও কারও ক্ষেত্রে তা আরও বেশি। করোনাজয়ীদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরও রোগীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় পর শ্বাসকষ্ট, অবসন্নতা, উদ্বিগ্ন ও হতাশার মতো লক্ষণগুলো থেকে যাচ্ছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই দুই থেকে তিন মাস পরেও এমন লক্ষণ দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা মাল্টিপল অর্গান বা দেহের বিভিন্ন অঙ্গে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করেছেন। করোনাভাইরাসের এখনও কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এই ভাইরাস শরীরে ঢুকলে তার সঙ্গে লড়াই করে শরীরের অ্যান্টিবডি। প্রথম লড়াইয়ে ভাইরাস দমে গেলেও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায় না। তখন হয়তো ভাইরাস ও অ্যান্টিবডি থেকে যায় পাশাপাশি। সমানে সমানে যতদিন থাকে ততদিন হয়তো সমস্যা হয় না। সমস্যা হয় তখন, যখন সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডি কমতে শুরু করে। মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ভাইরাস। আর যদি অ্যান্টিবডির সঙ্গে লড়তে লড়তে ভাইরাস নিজেকে পাল্টে ফেলে অর্থাৎ মিউটেট হয়, তাহলে যে ভাইরাসগুলো নিজেদের পাল্টাতে পারল না তারা তখনকার মতো কিছু করতে না পারলেও পরিবর্তিত ভাইরাসগুলো আবার সময়ের সঙ্গে বংশবৃদ্ধি করে এবং আবার রোগ হিসেবে ফিরে আসে। কিছুদিন আগেই উহানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, করোনাজয়ী বেশির ভাগেরই ফুসফুস চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের চিকিৎসকদের দাবি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত যারা সেরে উঠেছেন তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ রোগীর ফুসফুস ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনার মরণ থাবা থেকে তারা প্রাণে বেঁচে ফিরলেও ফুসফুস কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। এই ৯০ শতাংশের মধ্যে কয়েকজনের ফুসফুসের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বাড়ি ফেরার পরেও পুরোপুরি সুস্থ হননি তারা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন